kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

এক ভুলে ছয় মাস দেরি ভোগান্তিতে রোগীরা

নওগাঁ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণ

ফরিদুল করিম, নওগাঁ   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্পের নাম সেন্ট্রাল হাই ফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট। ছয় মাস আগে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্লান্ট হাউস (ঘর) না থাকায় কাজ বন্ধ হয়। ঠিকাদারের দাবি, হাউস নির্মাণ করার কথা শর্তে ছিল না। ছয় মাস পর যখন করোনা পরিস্থিতি মহামারির রূপ নিয়েছে, তখন সেই হাউসটির নির্মাণকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আসা করোনা রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রজেক্টের আওতায় গত ৬ মাস আগে নওগাঁ সদর হাসপাতালের পুরনো ও নতুন ভবনে সেন্ট্রাল হাই ফ্লো অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজ করার কথা। স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি কম্পানি ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু করে। কিন্তু একটি প্লান্ট হাউসের অভাবে সেই কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক গত ৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠান। এর একাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘নওগাঁ সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের জন্য প্লান্ট হাউস নির্মাণের কাজ কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রজেক্টের আওতায় চালু ছিল। প্লান্ট হাউসের উল্লেখযোগ্য কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের কাজের আওতা বিষয়ে তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে প্রজেক্ট কর্তৃক প্লান্ট হাউস স্থাপনসহ অন্য সব কাজ বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রজেক্টের আওতায় চলমান প্লান্ট হাউস নির্মাণ শেষ করা হলে হাসপাতালের নতুন ও পুরনো ভবনের সব অংশে নির্ভরযোগ্য হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ সিস্টেম চালু করা সম্ভব হবে।’ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সচিবের কাছে পাঠানো এই চিঠির কোথাও উল্লেখ করা হয়নি, কাজটি কত দিন আগে শুরু হয়েছিল এবং কত দিন বন্ধ হয়ে আছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পূর্ব দিকে পানির ট্যাংকের কাছে সবে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে প্লান্ট হাউসটির। কলামের জন্য রড বাঁধা হয়েছে। কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। কথা বলার জন্য ঠিকাদারের কাউকে সেই সময় পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক মাস আগে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালে ১২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। এর মধ্যে কভিডের জন্য ২০টি। তবে কোনোটিই হাই ফ্লো নয়।

২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মোহাম্মদ সাঈদুল হক জানান, সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগ প্লান্ট হাউসের স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। এরপর কাজ আবারও শুরু হয়েছে। এখনো অনেক কাজ বাকি। অনেকবার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।

করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্য কিভাবে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক জানান, হাই ফ্লো অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অক্সিজেনে কনসেলটেটর দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এতেও কাজ হয়।

আইসিইউ ওয়ার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাহিদা দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে লোকবল সংকট রয়েছে।’ করোনা পরীক্ষার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক জানান, র‌্যাপিড টেস্টে পজিটিভ ফল এলে সেগুলো আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয় না। যে নমুনাগুলো নেগেটিভ হয়, শুধু সেগুলো আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। এই ফল পেতে একটু সময় লাগে। তবে র‌্যাপিড টেস্ট কিটসের সংকট রয়েছে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ জানান, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার—এই তিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন পদ্ধতি চালু হয়েছে। জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তাদের বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।



সাতদিনের সেরা