kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতাল

দমবন্ধ ভেন্টিলেটর

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দমবন্ধ ভেন্টিলেটর

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রাখা ভেন্টিলেটর। গত সাত বছরেও এটি চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ছিলেন কিডনি রোগী। সপ্তাহে দুই দিন তাঁর ডায়ালিসিস করতে হতো। তিনি ঘন ঘন হবিগঞ্জ আসতেন বলে তাঁর চিকিৎসার সুবিধার্থে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ২০১৪ সালে বরাদ্দ আনেন একটি ভেন্টিলেটর।

এই যন্ত্র চালানোর জন্য তখন হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের দুজন চিকিৎসককে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে যন্ত্রটি এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালু করতে পারেনি। পরে মোস্তফা শহীদ ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান। বারডেম থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরাও বদলি হয়ে চলে যান অন্যত্র। যন্ত্রটি গত পাঁচ বছরে কেউ কোনো দিন চালু করেননি। অনেকে জানেনও না হাসপাতালে এটি রয়েছে। অযত্নে পড়ে থেকে সেটিতে ধুলোবালি জমেছে। অথচ করোনাকালে সারা দেশে আলোচিত হচ্ছে এই ভেন্টিলেশনের অপ্রতুলতা। হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালও আলোচিত সাধারণ অসুখ নিয়ে আসা রোগীর চিকিৎসা না দিয়ে ঢাকা-সিলেট রেফার করার ঘটনা নিয়ে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৬ সালের ২০ জুলাই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন করেন। তবে জনবলসহ অন্যান্য বিষয় অনুমোদন হয়নি। ফলে হবিগঞ্জবাসী ১০০ শয্যা হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এই জেলাসহ কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ভাটি এলাকার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকে। এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী সেবা নেয়। গ্রাম্য দাঙ্গা ও সড়ক দুর্ঘটনায় মাঝেমধ্যে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় জরুরি বিভাগে। হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। রোগীদের বেশির ভাগই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত হওয়ায় তাদের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসক সংকটসহ যন্ত্রপাতির অভাবে এখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। প্রায় সময়ই সামান্য সমস্যা নিয়ে এখানে আসা রোগীদের ঢাকা-সিলেট রেফার করা হয়।

সম্প্রতি হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এর বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে অনেক নষ্ট যন্ত্রপাতি। পুরনো অস্ত্রোপচার কক্ষসংলগ্ন ঘরে তিনটি বিশাল স্টেরিলাইজের যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অবহেলায়। হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, এগুলো কোনো দিন ব্যবহার করতে দেখেননি তাঁরা। এই ভবনের নিচে স্টোরকিপারের কক্ষের সঙ্গে বাক্সবন্দি বিশাল একটি জেনারেটর। এটিও চালু করা হয়নি কোনো দিন। ২৫০ শয্যা ভবনের নিচতলায় ছয় মাস আগে আসা ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন এখনো চালু হয়নি। নেই আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র। ওই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা এখনো চালু করা হয়নি। ভবনে স্থাপন করা হয়েছে লিফট। কিন্তু এটি এখনো চালু করা হয়নি। অথচ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য রোগীরা এলে পুরনো যন্ত্রপাতিতে কিছু পরীক্ষা হয়। আর সবাইকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়। হাসপাতালে সম্প্রতি এসেছে দুটি পোর্টেবল ভেন্টিলেশন যন্ত্র। কর্তৃপক্ষ জানায়, যন্ত্র দুটি বসানো হয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষে। কিন্তু অস্ত্রোপচার কক্ষ ঘুরে কোথাও পাওয়া যায়নি যন্ত্র দুটি। কেউ জানে না এখানে ভেন্টিলেশন আছে।

হবিগঞ্জ ২৫ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোমিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুটি পোর্টেবল ভেন্টিলেশন এসেছে। সেগুলো অস্ত্রোপচার কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো দিয়ে সাময়িক ব্যাকআপ দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে সেগুলো করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে রোগীদের সাপোর্ট দেওয়া যাবে। ডিজিটাল এক্স-রে চালু করা যাচ্ছে না বৈদ্যুতিক লাইনের সমস্যার জন্য। লিফট ও জেনারেটরও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরনো মেশিন মেরামত এবং নতুন মেশিন পাওয়ার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন অকেজো থাকা ভেন্টিলেটর পরীক্ষা করা হবে, এটি কী অবস্থায় আছে তা জানার জন্য। প্রয়োজনে তা মেরামত করা হবে।’



সাতদিনের সেরা