kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

সিংড়ার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদ

নারীবিদ্বেষী চেয়ারম্যান!

পুরুষ সদস্যদের বরাদ্দ দেন, বঞ্চিত করেন সংরক্ষিত নারী সদস্যদের

নাটোর প্রতিনিধি   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরিষদের দুই নারী সদস্য ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান মজিদ প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, ট্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ, ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কাবিটা ফান্ড থেকে দেওয়া ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে টিআর, কাবিটার বরাদ্দ ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা খাতুন ও মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা খাতুন ও মনোয়ারা বেগম আরো জানান, চেয়ারম্যান মজিদ এখন পর্যন্ত পরিষদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব এবং ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা দেননি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মজিদ ২০২০ সালের জুন মাসে এলজিএসপির ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকার কাজ তাঁর পছন্দের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন। এ ছাড়া অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে কোনো সভা না করে ওয়ার্ডে বিভিন্ন প্রকল্প দাখিল করেন এককভাবে।

আরো অভিযোগ করা হয়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কাবিখা প্রথম পর্যায়ে আগমুরশন কমিউনিটি ক্লিনিকের চারপাশে মাটি ভরাটের জন্য যে দুই লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয় তার মাত্র ৩০ হাজার টাকার মাটি ভরাট করে বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটার নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ দাবি করেন, ‘পরিষদের সব সদস্যের ভাতা পরিশোধ করেছি। আমি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করিনি। এটা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।’

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করা হবে।’



সাতদিনের সেরা