kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

পাকা ধানে মই

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাকা ধানে মই

জয়পুরহাটে কৃষকের জমি দখল ও ফসল নষ্ট করে খাল পুনঃখনন ও মাটি ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সদর উপজেলার সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ হেলকুণ্ডা খাল পুনঃখননকাজ শুরু করা হয়েছে। এতে খালের দুই পারের বেশ কিছু জমির ধান মাটিচাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় উপজেলার হেলকুণ্ডা, হানাইল ও কাদিপুর মৌজার কৃষকরা ফসলের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ধান কেটে ঘরে না তোলা পর্যন্ত খননকাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন। কৃষকরা জানান, গত সোমবার এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার হেলকুণ্ডা খাল পুনঃখননকাজ শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি থেকে। এতে বরাদ্দ হয় ৯০ লাখ টাকা। খাল খননের দায়িত্ব পায় যশোরের মিশনপাড়া পুরাতন কসবার মেসার্স নুর হোসেন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি হিসেবে খননকাজ দেখভাল করছেন নাটোরের মুক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। কৃষকদের দাবি, খালটির প্রস্থ মাত্র ১০ ফুট, অথচ ঠিকাদার তাঁদের ব্যক্তিগত ৪৫ ফুট জমি দখলে নিয়ে আধাপাকা ধানক্ষেত নষ্ট করে খননকাজ ও মাটি ভরাট করছেন। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে মামলাসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভয়ভীতির কারণে অনেকেই ধানগাছ কেটে মাটি ভরাটের জায়গা করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এক মাস পর খাল খনন করলে তাঁদের বোরো ধানের ক্ষতি হতো না। এ অবস্থায় চলমান খাল খননে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি এক মাসের জন্য খাল খননকাজ বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন তাঁরা।

হেলকুণ্ডা গ্রামের কৃষক আবু মাসুম বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ করে আমরা বোরো চাষ করেছি। জমিতে ধানও প্রায় পেকে গেছে। আর এক মাস পর এই ধান তাঁদের ঘরে ওঠার কথা, কিন্তু যেভাবে মাঠের ভেতর দিয়ে এক্সকাভেটর মেশিনে খাল খননের কাজ করা হচ্ছে, তাতে ক্ষেতের অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’ হানাইল গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আগে জানলে আমরা খালপারের জমিতে ধান চাষ করতাম না। এখন আধাপাকা ধান কেটে খালের মাটি ভরাটের জায়গা খালি করতে হচ্ছে। না কাটলে ঠিকাদার ধানক্ষেতের ওপর মাটি ভরাট করছেন।’ একই এলাকার কৃষক হাফিজুল, ফিরোজ আলম ও রেজাউল করিম জানান, তাঁরা খাল কাটার বিরোধিতা করছেন না। তবে তাঁদের দাবি, ধান কেটে নেওয়ার পর খাল খনন করা হোক। এতে তাঁরা ক্ষতি থেকে অনেকটা রেহাই পাবেন। কিন্তু ঠিকাদার তাঁদের কথা শুনছেন না। জোর করে খাল খনন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি নাটোরের মুক্তার হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমরা কৃষকের জমিতে নয়, খাল খনন করছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। সময় কম থাকার কারণে বিলম্ব করাও সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই দ্রুত সময়ে খাল খননকাজ শেষ করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের নীতিমালা মেনে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হেলকুণ্ডা খাল পুনঃখননের কাজ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। এখনো কৃষকের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকের ক্ষতি করে খাল খনন করা যাবে না। ক্ষতি করলে ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা