kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

প্রকৌশলীর যোগসাজশে অনিয়ম

বোয়ালমারীতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারী পৌরসভায় আট কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৩.৩৬ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপ স্থাপন, ১৯টি ডাস্টবিন, পাঁচটি পাবলিক টয়লেট, ১০টি কমিউনিটি টয়লেট, ১০টি সড়ক পানি সরবরাহ কল ও একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণের কাজ। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এ প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। বোয়ালমারী পৌরসভার এই কাজ পেয়েছে গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।

কাজ শুরুর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরবরাহ লাইনের পাইপের নিচে ও ওপরে নির্দিষ্ট পরিমাণে বালু না দেওয়া, গভীরতা-প্রশস্ততা কমসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। পাইপের নিচে ও ওপরে ছয় ইঞ্চি করে বালু দেওয়ার কথা থাকলেও এক ইঞ্চিও দিচ্ছে না। গর্তের গভীরতা ও প্রশস্ততাও নির্দিষ্ট পরিমাপের কম।

গত বুধবার ওই প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য জানতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বোয়ালমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যান। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমিনুর রহমান তাঁদের তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন। পরদিন স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য অধিকার আইনে লিখিত আবেদন করলেও তিনি ওই প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রকৌশলী বলেন, ‘পাইপের নিচে এবং ওপরে সঠিক পরিমাণে বালু দেওয়া না হলে পাইপ দেবে অথবা ভেঙে যেতে পারে।’

গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. আজাদ বলেন, ‘পাইপটিকে নিচে সমতল করার জন্য বালু দেওয়া হয়। কোথাও যাতে উঁচু-নিচু না থাকে। কোথাও এক ইঞ্চি বালু লাগতে পারে আবার কোথাও আট ইঞ্চিও লাগতে পারে। আমরা সেভাবেই কাজ করি। এক ইঞ্চি বা পাঁচ ইঞ্চি বালুতে খুব বেশি পার্থক্য হয় না।’ পাইপের নিচে ও ওপরে যৎসামান্য বালু দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমিনুর রহমান মোবাইল ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কামারগ্রাম-চালিনগর মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন।