kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

শাহিদাকে দেখতে যদি...

পলিথিনে মোড়া ঘরে বসবাস শাহিদার

আব্দুল হালিম, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাহিদাকে দেখতে যদি...

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় খুপরিঘরে শাহিদা খাতুনের পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও/ বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্নাপাতার ছানি/ একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি/ একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে/তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতার মতো ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কাহালগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের অসহায় শাহিদা খাতুনের বাড়ি। পাখির বাসার মতো একটি খুপরিঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। পলিথিন ও চটের বস্তায় ঘরের চারপাশ ঘেরা। একটুখানি বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। আর এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর ধরে থাকছেন শাহিদা।

জানা গেছে, উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও গ্রামের মোতালেব হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় শাহিদার। এই দম্পতির এক মেয়ে রয়েছে। শাহিদার স্বামী এখন অসুস্থ। ভিটে ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। শাহিদা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করলে পরিবারের মুখে আহার জোটে। তা না হলে অনাহারে থাকতে হয় তাঁদের। হতদরিদ্র শাহিদা অন্যের বাড়ি কাজ করে দিনশেষে ঘরে ফিরে একটুও শান্তিতে ঘুমাতে পারেন না। বৃষ্টি-বাতাসের আভাস দেখলেই ঘরের জিনিস নিয়ে ছুটে যেতে হয় পাশের বাড়িতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাহালগাঁও বাজার থেকে পূর্ব দিকে উথুরা সড়কের উত্তর পাশে বাঁশবাগানের নিচে ছোট্ট একটি বাড়ি। পলিথিন, চটের বস্তা ও তালপাতায় ঘেরা নড়বড়ে একটি ঘর। এতে দরজা-জানালা কিছুই নেই। মাটিতে বিছানা পেতে থাকেন তাঁরা।

শাহিদা জানান, তাঁর স্বামী অসুস্থ। শাশুড়ি ময়মন নেছার বয়স ৮০। এ ছাড়া তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। ঘরের কথা উঠতেই কেঁদে ফেলেন শাহিদা। টেকসই ঘর দেওয়ার সামর্থ্য নেই তাঁর। ঝড়-বৃষ্টির দিন অসুস্থ স্বামী ও শিশুসন্তান নিয়ে কোথায় থাকবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে গত দুই বছর ধরে পলিথিনে মোড়া এমন খুপরিঘরে বসবাস করছেন।

আশপাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাহালগাঁও গ্রামের আইয়ূব আলীর ছেলে মোতালেব হোসেন প্রায় ২৫ বছর আগে লিচুগাছ থেকে পড়ে কোমরে ব্যথা পান। এরপর থেকে ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না।

শাহিদা খাতুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব গরে ঘর কইরা দিতাছে। আমগর কতা চেয়ারম্যান-মেম্বররা কয় না, কইলে এক্কান ঘর কইরা দিত।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী তালুকদার বলেন, ‘শাহিদা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়। ঘরের জন্যও তালিকায় নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো ঘর পায়নি। তবে এ পরিবারটির জন্য একটি ঘর খুবই জরুরি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’