kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

সাত মাস পর শ্রমিকরা বাইরে, উৎপাদন বন্ধ

দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় সাত মাস অবরুদ্ধ থাকার পর প্রধান ফটক খুলে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৬০৪ জন শ্রমিক। গত রবিবার রাত ৮টার দিকে খনির ভূগর্ভ থেকে একযোগে বের হয়ে আসেন তাঁরা। ফলে খনির কয়লা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনার পর গতকাল সকালে ফুলবাড়ী প্রেস ক্লাবে খনিতে চলমান লকডাউন প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেষে ফুলবাড়ী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিকরা।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কভিড-১৯ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত এক হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৬০৪ জনকে ভেতরে রেখে খনির কয়লা তোলার কাজ চলমান রাখা হয়। এর পর থেকে খনির ভেতরে প্রায় সাত মাস অবরুদ্ধ থাকেন শ্রমিকরা। কয়েক দিন আগে খনির প্রধান ফটক উন্মুক্তকরণসহ তিন দফা দাবিতে খনির ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন করোনায় লকডাউনে থাকা শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত রবিবার বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি, জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদসহ কর্মকর্তারা। কিন্তু খনির প্রধান ফটক উন্মুক্ত করাসহ শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভেতরের শ্রমিকরা। তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বাইরে থাকা শ্রমিকরাও। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাধ্য হয়েই গত রবিবার রাতে খনির প্রধান ফটক খুলে দিলে ভূগর্ভে থাকা ৬০৪ জন শ্রমিক বইরে বেরিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ৩৮ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেন। এরই মধ্যে আসামি খনি শ্রমিক ইব্রাহিম, রবিউল, আসাদুজ্জামান, মহিবুল ও নুরে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

মন্তব্য