kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

হাকিমপুর মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর

ঘুষ ছাড়া কথাই বলেন না

অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আশরাফুল আলম সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে হিসাবরক্ষক হয়েছেন। এ ঘটনায় হতবাক উপজেলার শিক্ষকরা

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর)   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুষ ছাড়া কথাই বলেন না

আশরাফুল আলম

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আশরাফুল আলম সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে হিসাবরক্ষক হয়েছেন।

এ ঘটনায় হতবাক উপজেলার শিক্ষকরা। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে ঘুষ ছাড়া কাজ তো দূরের কথা, ভালো করে কথাই বলেন না।

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য জমাসহ বৃত্তি ও উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফলাইন/অনলাইন ও কম্পিউটারজনিত যাবতীয় কাজ তাঁরা ব্যক্তিগত অথবা বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকান থেকে করেন। কাজ শেষে হার্ড ও সফটকপি শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হয়। তখন কপিতে ভুল না থাকলেও নানা অজুহাতে ভুল দেখিয়ে তথ্য জমা না নেওয়ার হুমকি দেন আশরাফুল। তিনি পাঁচ বছর ধরে অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। শিক্ষকদের করা কাজ তাঁর অপছন্দ এবং  ফের কাজ করার নামে অবৈধভাবে নানা রকম হয়রানি করেন। মৌখিক ও জারি করা চিঠির চাহিদামতো সব কাজ তাঁর মাধ্যমে করাতে বাধ্য করেন। এ জন্য কম্পিউটারের দোকানের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেন। এসব কাজ তিনি অফিসে বসেই করেন।

তাঁরা আরো জানান, প্রধান শিক্ষকদের তিনি ‘ভাই-বোন’ বলে সম্বোধন করেন। বিশেষ প্রয়োজনে কল করলে তিনি ফোন ধরেন না। উপরন্তু সপ্তাহে দুই-তিন দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। প্রতিষ্ঠানের এমপিও পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা হারিয়ে গেলে পাঁচ হাজার টাকায় তাঁর কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। টাকা ছাড়া এ অফিসে কোনো কাজই হয় না। ফাইলসংক্রান্ত কাজে ঘুষ নেওয়া তাঁর স্বভাব। বিনা মূল্যে সরকারি বই বিতরণে বিদ্যালয় প্রতি টাকা নেওয়া এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর স্কেল, বিএড স্কেল, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওসংক্রান্ত অনলাইন আবেদন পাঠানো বাবদ মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন। টাকা না পেলে নির্দিষ্ট তারিখের আগে ফাইল ফেরত দেন। তাঁর চাহিদা পূরণ না করলে নানা রকম হয়রানি, অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শিকারসহ তাঁর রোষানলে পড়তে হয় শিক্ষকদের।

এসব বিষয়ে আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি ওই সব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে হয়রানি করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে আমি জানি।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ৪ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর সুপারিশ করেছি।’

হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-উর রশিদ জানান, শিক্ষকরা তাঁর কাছেও বিভিন্ন সময় এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

মন্তব্য