kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

দিনাজপুরে বিয়েবিচ্ছেদে এগিয়ে নারীরা

বেড়েছে বিচ্ছেদ

♦ ২০২০ সালে ৪৫ শতাংশ
♦ ২০১৯ সালে ৩৬ শতাংশ
♦ ২০১৮ সালে ৩৩ শতাংশ
♦ ২০১৭ সালে ৩৭ শতাংশ

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বিয়েবিচ্ছেদ (তালাক)। করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা বিগত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে মোট বিয়ের ৩৩ শতাংশই বিচ্ছেদ হয়েছে। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর করোনা প্রাদুর্ভাবের বছর ২০২০ সালে বিচ্ছেদ হয়েছে ৪৫ শতাংশ। শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারীরাই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশি।

দিনাজপুর পৌরসভার তালাকসংক্রান্ত সালিসি পরিষদের বৈঠক বসে মাসে দুইবার। গত ১ মার্চে ৪০টি তালাকসংক্রান্ত বৈঠক ডাকা হয়। এই ৪০টি বিয়ের বেশির ভাগই ছিল প্রেমের সম্পর্ক। তালাক দেওয়া দম্পতিদের তালিকায় ছিলেন চিকিৎসক, অ্যাডভোকেট, পুলিশসহ সাধারণ দম্পতিরা। ওই ৪০টি তালাকসংক্রান্ত বৈঠকের ২৭টিই মেয়ের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আগের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে কাজের হার বাড়ায় লোকলজ্জার চেয়ে আত্মসম্মানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। তাই সংসারে অশান্তি নিয়ে থাকার চেয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তকেই উপযুক্ত বলে মনে করছেন তাঁরা।

তালাকের নিয়ম অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার পর কাজি অফিস থেকে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে চিঠি পাঠানো হয়। তালাকের পর পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ৯০ দিন সময় পান সালিস করে তালাকের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পন্ন করার। সেই নিয়ম অনুযায়ী, দিনাজপুর পৌরসভার তালাকসংক্রান্ত সালিসি পরিষদে সালিস চলাকালে মাসে দুই দিন ৪০-৪৫টি তালাকসংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে প্রতি সালিসেই কোনো না কোনো তালাক চূড়ান্ত হয়।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিয়ে হয়েছে ১২ হাজার ২৬৭টি, আর তালাক হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৩০টি। বিয়ের অনুপাতে বিচ্ছেদের পরিমাণ ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলের পক্ষ থেকে তালাক দিয়েছে ৯৭৭ জন। আর মেয়ের পক্ষ থেকে তালাক দিয়েছে দুই হাজার ২১৩ জন। অন্যদিকে ছেলে-মেয়ে উভয়েই তালাক দিয়েছে দুই হাজার ৩৪০ জন। ২০১৯ সালে বিয়ে হয় ১৫ হাজার ৬৮৮টি, আর তালাক হয় পাঁচ হাজার ৬৭৬টি। বিয়ের অনুপাতে তালাকের পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। ২০১৮ সালে বিয়ে হয় ১৫ হাজার ৫৫৯টি, আর তালাক হয় পাঁচ হাজার ২০৮টি। ২০১৭ সালে বিয়ে হয় ১৪ হাজার ২৬৪টি, আর তালাক হয় পাঁচ হাজার ৩৪৫টি। বিয়ে ও বিচ্ছেদ থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি টাকা।

দিনাজপুর পৌরসভার তালাকসংক্রান্ত সালিসি পরিষদে প্রধান প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল জানায়, নারীদের তালাক দেওয়ার হার পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি।

আইনজীবী মিন্টু কুমার পাল বলেন, ‘পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে এখন অনেক নারী নিজের পেশাজীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তা ছাড়া মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ফলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে এখন আর দ্বিধা করছেন না নারীরা।’

মন্তব্য