kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

নাম পাল্টে দুর্নীতি

হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ

সুনামগঞ্জ ও দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাম পাল্টে দুর্নীতি

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে নিয়োজিত সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে আটটি প্রকল্প থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন চয়ন চৌধুরী ও কৃপেন্দ্র দাস তথ্য গোপন করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ। প্রকল্পের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। প্রকল্পগুলোতে প্রথম দফা কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু অর্ধেক কাজই বাকি পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।  এরই মধ্যে অর্ধেক বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, ডুমরা গ্রামের চয়ন উপজেলা চেয়ারম্যান আল আমিনের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলচালক। আর কৃপেন্দ্র উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘাগটিয়া জলমহালের প্রহরী। এ দুই ব্যক্তি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য গঠিত ১৯, ৬৪, ৬৫, ১০০, ১০১, ১০৩, ১০৪ ও ১০৫ নম্বর প্রকল্পের দেখভাল করছেন। বাবার নাম বদল করে একই ব্যক্তির নামে এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পে বরাদ্দের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি। এখনো মুক্তারপুর বড় ক্লোজারটি মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়নি। অন্যান্য প্রকল্পে শুধু ওপরে প্রলেপ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এসব প্রকল্পে প্রাক্কলনের নামে পাউবোর স্থানীয় কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চুরির সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছায়ার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ১০০ ও ১০১ নম্বর প্রকল্পে অপ্রাপ্তবয়স্ক অন্তু তালুকদারকে যুক্ত করা হয়েছে। ১০০ নম্বর প্রকল্পে তাঁকেই সভাপতি করা হয়েছে। অন্তুর হাওরে কোনো জমি নেই। তিনি চয়নের দোকানের কর্মচারী মাত্র। চয়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বরাদ্দ হাতিয়ে নিতে অন্তুকে একবার ‘চৌধুরী’, আরেকবার ‘তালুকদার’ দেখিয়ে দুটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ১০০ নম্বর প্রকল্পে তাঁর বাবার নাম ঠিক থাকলেও ১০১ নম্বর প্রকল্পে চয়নের বাবা ডুমরা গ্রামের শশাঙ্ক চৌধুরীকে পিতা দেখিয়ে সদস্য করা হয়েছে। ১৯ নম্বর প্রকল্পে সদস্যসচিব করা হয়েছে চয়নের বোন জামাই মতিলাল চৌধুরীকে। ৬৫ নম্বর প্রকল্পে সভাপতি করা হয়েছে চয়নের কাকাতো ভাই পলাশ চৌধুরীকে। ৬৪ নম্বর প্রকল্পে আরেক চাচাতো ভাই বিশ্বজিৎ চৌধুরীকে সভাপতি ও আরেক কাকাতো ভাই হিল্লোল চৌধুরীকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ১০১ নম্বর প্রকল্পে অকৃষক অখিল চৌধুরীকে সভাপতি, চয়নের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে খ্যাত উপজেলা চেয়ারম্যানের মৎস্য খামারের প্রহরী কৃপেন্দ্রের চাচা ভূমিহীন সুদীপকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ১০৫ নম্বর প্রকল্পে প্রহরী কৃপেন্দ্র দাসকে সভাপতি করা হয়েছে। তথ্য গোপন করে একজনকে একাধিক প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া প্রাক্কলন অনুযায়ী কোথাও কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

অভিযুক্ত চয়ন দাবি করেন, ‘অন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ কাজ করাচ্ছি আমি। কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে না।’ আরেক অভিযুক্ত কৃপেন্দ্র দাবি করেন, ‘আমি ভূমিহীন হলেও বর্গাচাষি। তাই প্রকল্প পেয়েছি।’

ইউএনও এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে যুক্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি আল মুক্তাদীর হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই।’

মন্তব্য