kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

উদীচী হত্যাকাণ্ড

২২ বছরেও বিচার হয়নি

যশোর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২২ বছরেও বিচার হয়নি

উদীচীর অনুষ্ঠানে যশোরে বোমা হামলায় নিহত ১০ শহীদের স্মরণে বিস্ফোরণস্থলে নির্মিত স্মৃতি স্মারক। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৯৯৯ সালে ৬ মার্চ রাতে যশোর টাউন হল মাঠে উদীচীর সম্মেলনে বোমা বিস্ফোরণে শিল্পীসহ নিহত হন ১০ জন। আহন হন আড়াই শতাধিক মানুষ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পার হয়েছে ২২ বছর। কিন্তু আজও হয়নি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার।

সেদিনের বোমা হামলায় নিহতরা হলেন নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, নূর ইসলাম, ইলিয়াস মুন্সি, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম মিলন, মোহাম্মদ বুলু, রতন কুমার বিশ্বাস, শাহ আলম পিন্টু ও বাবু রামকৃষ্ণ।

উদীচী হত্যাকাণ্ডের পর পৃথক দুটি মামলা হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৩০ মে আদালত এই মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ২০১১ সালে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে। উচ্চ আদালত আপিল আবেদন গ্রহণ করে আসামিদের যশোরের নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। মামলার ২৩ আসামির মধ্যে ১৯ জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। অন্য চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে থমকে আছে মামলাটির বিচারকাজ।

সেই রাতের বোমা বিস্ফোরণে ডান পা হারানো সুকান্তর জীবন চলে এখন কৃত্রিম পায়ে ভর করে। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম পা মাঝেমধ্যে মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। সেই মেরামতের খরচ চালাতে হয় পরিবারের পক্ষ থেকে মা-বাবা ও তাঁর ভাই-বোনদের। বিস্ফোরণের কারণে তাঁর ডান কানের অবস্থাও খারাপ। ঠিকমতো শুনতে পান না। কানে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তা-ও করাতে পারছেন না। এসব কষ্টের চেয়ে তাঁর কাছে বড় কষ্ট বিচার দেখতে না পারা। বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় দুই পা হারানো শিল্পী হরেন বাউল থাকেন যশোরের চৌগাছায়। কয়েক বছরের ব্যবধানে মারা গেছে তাঁর বড় ও ছোট ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও পোতা ছেলেদের নিয়ে বয়স্ক মানুষটির দিন কাটছে চরম কষ্টে। বোমা বিস্ফোরণে দুই পা হারানো নাহিদ বর্তমানে পরিবহন সেক্টরে ৩০০ টাকা হাজিরায় লাইনম্যানের চাকরি করেন। কিন্তু তাতে তাঁর সংসার চলে না। তবে এসব কষ্ট ছাপিয়ে তাঁদেরও কষ্টের বড় কারণ এখনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়াটা।

উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু বলেন, ‘মামলা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। এখন এই মামলা পুনঃ তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা ও সেই আলোকে বিচার সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।’

যশোর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সেই খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছে। আপিল এখনো পেন্ডিং। আমি পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উনি আমাকে কথা দিয়েছেন, আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।’

এদিকে হত্যাকাণ্ড স্মরণে আজ বিকেলে উদীচী যশোর টাউন হল মাঠে প্রতিবাদী গান, আলোচনাসভা, শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য