kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

শিকলে বাঁধা ছোট বোন ঝুলছিলেন বড় বোন

বাগেরহাটে বিচ্ছিন্ন দুই বোনের একসঙ্গে চলে যাওয়া

গোপালগঞ্জ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) ও চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিকলে বাঁধা ছিলেন ছোট বোন মিনা বেগম (৩০)। আর ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিলেন বড় বোন মুর্শেদা বেগম (৩৫)। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মানিকদী নয়াহাটি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে গতকাল বুধবার মুর্শেদার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নয়াহাটি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম দফাদারের স্ত্রী মুর্শেদা বেগম ও শ্যালিকা মিনা বেগম দুজনই মানসিক রোগী। দুই বোন একত্রেই থাকতেন। মুর্শেদার স্বামী তিন বছর আগে মারা যান। তাঁদের একমাত্র মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়ে স্বামীর বাড়ি থাকায় তাঁদের দেখাশোনা করার মতো তেমন কেউ ছিল না। গতকাল দুপুরের দিকে হঠাৎ ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা খুলে মুর্শেদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় ঘরের ভেতর মিনা বেগমকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা গৌতম সেন জানান, ওই দুই বোনই মানসিক রোগী বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শেদার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী গোলাম সারোয়ার জানান, দুই বোন মানসিক রোগী। তাঁদের দেখাশোনার আসলে কেউ ছিল না।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধারণা করছি এটি আত্মহত্যা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

অন্যদিকে বাগেরহাটে দুই বোনের মনে কী চলছিল কে জানে? একই রঙের শাড়ি পরে একই ঘরে কিনা বিষপান করল! পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পাওয়ামাত্র তাঁদের উদ্ধার করে পাশের গোপালগঞ্জে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার ভোরে তাঁদের মৃত্যু হয়। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে দুই বোন আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। মৃতরা হলেন বাগেরহাটের চিতলমারীর কাননচক গ্রামের বৃষ্টি বেগম ও প্রীতি বেগম। সম্পর্কে তাঁরা আপন চাচাতো বোন। বিয়ের আগে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন তাঁরা। 

গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে (দুই বোনের) বিষপানের কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’