kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ভাঙ্গুড়া

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকচক্র

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতারকচক্রের খপ্পরে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা খোয়াল পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অনেক অভিভাবক। গত দুই দিন ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

এ পর্যন্ত উপজেলার গজারমারা, মেন্দা খালপাট ও বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক অভিভাবকের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতারণার শিকার কয়েকজন অভিভাবক সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম রেজা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গত রবিবার ১২ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির ৪৫০ টাকা করে অভিভাবকদের মোবাইলে পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পরে মোবাইল ব্যাংকিং নগদ কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের মেসেজ পাঠায়। এরপর ফোন করে প্রত্যেক অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট চালু করতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সেট করতে বলা হয়। অ্যাকাউন্ট চালু হলে অভিভাবকরা টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু টাকা মোবাইলে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রতারকচক্র উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। এ সময় বেশি টাকা পাঠানো হবে বলে নগদের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড চাইলে অনেক অভিভাবক তা প্রতারকদের দিয়ে দেন। এরপর এসব অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যায়।

মেন্দা খালপাট গ্রামের অভিভাবক মমতাজ খাতুন বলেন, ‘ফোন করে শিক্ষকের কথা বলে মেসেজে আসা নম্বরটা চাইলে দিয়ে দিই। পরে মোবাইল নিয়ে দোকানে টাকা তুলতে গেলে দেখি টাকা নাই।’ মেন্দা খালপাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান টগর বলেন, ‘প্রতারকরা কৌশলে অভিভাবকদের ফোন দিয়ে টিন নম্বর নিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে। এ পর্যন্ত আমার বিদ্যালয়ের ৯ জন অভিভাবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জেনেছি। তবে সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম রেজা বলেন, ‘প্রতারকরা ভুয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা সেজে ফোন দিয়ে ওটিপি নম্বর নিয়ে নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিভাবক ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতারণার বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপর এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে আমরা জানিয়েছি। প্রতারকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে এরই মধ্যে প্রচারকাজ শুরু করেছি।’

মন্তব্য