kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

জয়পুরহাট

ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটে দিন দিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে জেলায় দুই হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের মধ্যে আট মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা আধুনিক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত জানুয়ারি মাসে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। ওই সময় জেলায় দুই হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে ৪৯৯ জন।

আরো জানা যায়, জেলা আধুনিক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা আছে। এ জন্য বেডের (শয্যা) কিছুটা সংকট আছে। এর পরও আলাদা দুটি কক্ষে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা চলছে। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের করিডরের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার এখানে ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জনই শিশু। তবে প্রতিদিনই অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছে।

গত শনিবার ১০ মাস বয়সী ছেলে রাফিকে নিয়ে এ হাসপাতালে আসেন ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া মসনদালের সুমি আক্তার। কিন্তু তিনি কোনো বেড পাননি। এ অবস্থায় মেঝেতে রেখেই ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। ডায়রিয়ার পাশাপাশি শিশুটির আবার কাশি হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসক আরো দু-এক দিন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে দেড় হাজারেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে। গত তিন দিনও গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে।’

আরেক নার্স জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, ‘এমনিতেই রোগীর ভিড়, তার ওপর ছোট্ট রুম। বসার জায়গা না থাকলেও কষ্ট করে বসতে হচ্ছে। সেখানে নেই কোনো ওয়াশরুম, নেই কোনো বেড। এর পরও সাধ্যমতো কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি।’

জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে।’

মন্তব্য