kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

কোটি টাকা নিয়ে উধাও সার্ভেয়ার

ঝিকরগাছায় ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের ঝিকরগাছা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মরত অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মানুষকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়াসহ চাকরির প্রলোভন ও ধার নেওয়া বাবদ এসব টাকা নিয়েছেন তিনি। শহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচিল গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমানের কাছে একাধিক অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার মাটশিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম দেড় বছর আগে তাঁদের এলাকার ১৫০ জনের কাছ থেকে সরকারি জমির ইজারা বাবদ দুই লাখ টাকা করে নেন। ১৫ দিন পরে টাকার রশিদ দেবেন বলে জানালেও তা শেষ পর্যন্ত দেননি। উপজেলার বিষহরি গ্রামের নজরুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম এক বছর আগে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না।

জেলার মণিরামপুর উপজেলার কামালপুর গ্রামের শাহাবুদ্দীনের অনার্স পড়ুয়া ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বছরখানেক আগে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন শহিদুল। তারপর থেকে নানা টালবাহানা করছেন। এখন আর ফোন ধরছেন না তিনি। একই উপজেলার আব্দুল হামিদের ছেলে কলেজপড়ুয়া রাব্বিল হাসান বলেন, তাঁকে ঝিকরগাছা ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বছরখানেক আগে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে তাঁকে দিয়ে কয়েক দিন অফিসের কম্পিউটারের কাজও করিয়েছেন। কিন্তু চাকরি দিতে পারেননি। তা ছাড়া খানপুর গ্রামের হালিমুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলামকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় বছর আগে শহিদুল ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মচারী বলেন, লোকজনের কাছ থেকে কোটি টাকার ওপরে নিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী নাজিব হাসান জানান, প্রতারণা করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অফিসেও আসছেন না। শহিদুল এক মাসের মেডিক্যাল ছুটির আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা মঞ্জুর করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান জানান, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশকিছু আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন। তবে চাকরি পেতে টাকা দেওয়াটাও এক ধরনের অপরাধ। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য