kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

আ. লীগে ‘সর্বদলীয়’ নেতা

বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন কমিটি

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আসাদুজ্জামান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিগত দিনে বিভিন্ন সরকারের আমলে তিনি সুবিধা পেতে দল পরিবর্তন করেন। একসময় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিএনপি করতেন। এরপর স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগের পদ বাগান। এ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন একাংশের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় সব ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে আট সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠন করেন উপজেলার নেতারা। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটিকে না জানিয়ে ওয়ার্ডগুলোর কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান পাওয়া বিতর্কিতদের বাদ দিতে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের সূত্র এবং ২০১৩ সালের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি থেকে জানা গেছে, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সোহরাফ খানকে বর্তমানে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই ওয়ার্ডের বিএনপির সহসভাপতি সোহরাফ সিকদার, দপ্তর সম্পাদক সামসুল হক সিকদার ও সদস্য রাসেল খানকে বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বরর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস, সদস্য চান মিয়া, খলিল বয়াতি, শামসুল হক ফরাজী, মো. এমাদুল আকন, মো. মোস্তফা ও আলী আকবর হাওলাদারকে ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হকের ভাই মো. সিরাজুল হককে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. রহিমকে আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. শাহীন মল্লিককে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সদস্য মো. সগির হোসেন, মো. সুমন ও রাসেল হোসেনকে আওয়ামী লীগের পদ দেওয়া হয়েছে। ৬ নম্বরর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. ফারুক খানকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সদস্য মো. আ. সালাম, মো. সেন্টু ও মো. দুলাল হোসেনকে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মিলন খানকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সদস্য হালিম খান, লিটন মোল্লাকে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আফতাব হোসেন রাশেদ মোল্লা বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাতের আঁধারে কমিটিগুলো প্রকাশ করেন। অনেক পদে বিএনপি কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর আসাদুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা বলেন, ‘বর্তমান সব ওয়ার্ডে যাঁরা আছেন, তাঁরা বিগত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ করেছেন।’

বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন কমিটিতে জামায়াত-বিএনপির কর্মীরা কিভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’

মন্তব্য