kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

হাকালুকি

প্লাস্টিকে নষ্ট হাওর

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্লাস্টিকে নষ্ট হাওর

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় হাকালুকি হাওরে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের প্লেট। ছবি : কালের কণ্ঠ

যত্রতত্র পড়ে রয়েছে পানির বোতল, চানাচুর ও চিপসের প্যাকেট, পলিথিন এবং ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্লেট। সম্প্রতি এই দৃশ্য দেখা গেছে হাকালুকি হাওরে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এশিয়ার বৃহত্তম ও দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হচ্ছে হাকালুকি। মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারজুড়ে এর বিস্তৃতি। হাওরের সবচেয়ে বড় অংশ পড়েছে বড়লেখায়। জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব বিবেচনায় হাওরটি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জলাভূমি। শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ হাওরটিকে করেছে সমৃদ্ধ।

হাওরের নিসর্গ উপভোগ করতে বছরজুড়ে পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেলেও অসচেতনতার কারণে নষ্ট হচ্ছে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। পর্যটকের যত্রতত্র ফেলে যাওয়া পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্লেটের বর্জ্যে মারাত্মক দূষণ হচ্ছে পরিবেশ ও প্রকৃতির। এর প্রভাব পড়ছে হাওরের জীববৈচিত্র্যের ওপর।

বড়লেখা অংশের বন বিভাগের হাকালুকি বিট কার্যালয়, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও দুধাই বিলপার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, পলিথিন ও প্লাস্টিক যে পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা এখনো বেশির ভাগ মানুষ জানে না।

পরিবেশকর্মী ও বড়লেখা উপজেলা স্কাউটের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, হাওরে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের বেশির ভাগ পলিথিন যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা জানে না। তারা ঘুরতে গিয়ে যত্রতত্র পানির বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ফেলে যায়। এগুলো বর্ষায় পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে। আবার এসব প্লাস্টিক যাচ্ছে জলজ প্রাণী ও মাছের পেটে। হাকালুকি হাওর এ দেশের সম্পদ। হাওর রক্ষায় এখনই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। হাওরের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদেরও সচেতন করতে হবে। শুধু হাকালুকি হাওর নয়, বড়লেখা উপজেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটেরও একই অবস্থা। তিনি বলেন, ‘আমরা স্কাউট দল নিয়ে পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করি। কিন্তু যতক্ষণ স্পটে প্রচারণা হয়, মানুষ ততক্ষণই কথাগুলো শোনে। এরপর আগের অবস্থা হয়। সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি ভাবতে হবে।’

আলাপকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটক আসবে। তবে যত্রতত্র খাবার প্যাকেট, প্লাস্টিক ফেলায় হাওরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের সৌন্দর্য। হাওরের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন, ‘হাওরের যেসব জায়গায় পর্যটক সমাগম বেশি হয়, সেসব জায়গায় সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড, ফেস্টুন টাঙানো ছাড়াও ডাস্টবিন স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। হাওরের পরিবেশদূষণ হ্রাস ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজনকে সচেতন করতে কর্মশালা করা হবে, যাতে পর্যটকদের সচেতনতায় তারাও কাজ করে।’

মন্তব্য