kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

বিচারকের অভাবে বিচার বন্ধ

সুন্দরগঞ্জে চার পুলিশ হত্যার আট বছর

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশি তদন্তকেন্দ্রের চার পুলিশ খুনের আট বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এই উপলক্ষে হত্যা মামলাটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচারকের অভাবে গত এক বছরে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আদালত সূত্র জানায়, এই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে ২৩৫ জনের নামে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ৭৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাকি আরো ৫৯ জন। এ অবস্থায় মামলাটি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে ওই আদালতে বিচারক না থাকায় নতুন করে অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মেদ প্রিন্স বলেন, ‘মামলাটি এখন বিচারিক কার্যক্রমে রয়েছে। তবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক না থাকায় মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আশা করি, আগামী মাসে বিচারক এলে দ্রুত মামলার দৃষ্টান্তমূলক রায় শুনতে পারব।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে তাণ্ডব চালান জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উপড়ে এবং গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। ওই দিন নিহত হন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রহমতচর গ্রামের তোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কিশামত গোবধা গ্রামের হযরত আলী, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়া ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার ধনারুহা গ্রামের নাজিম উদ্দিন। দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়ায় শঙ্কা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তাঁরা দ্রুত বিচার কাজ শেষ করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চান।

এ বিষয়ে নিহত কনস্টেবল তোজাম্মেল হকের স্ত্রী আরেফা বেগম প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি বলেন, ‘কী হবে আপনাদের বলে? সরকারের পক্ষ থেকে সন্তানদের চাকরির আশ্বাস পেয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশ্বাস আজও বাস্তবায়িত হয়নি। গত সাত বছরে অনেক রিপোর্ট করেছেন আর করার দরকার নেই।’

তোজাম্মেল হকের মেয়ে তাজমিন আক্তার বলেন, ‘আমি সিএ পড়ছি। অনেক কষ্টে টাকা জোগান দিচ্ছে পরিবার। আমাদের জন্য কেউ কিছুই করতে আসেনি।’

হযরত আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম বলেন, ‘আমি অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছি। এখন আমার সম্বল একমাত্র সন্তান ইফতেখার। ওকে নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখি। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হলেও আজও তা পাইনি।’

কনেস্টবল খাজা নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।’

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘নিহত চার পুলিশ পরিবারের কেউ চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর আগে বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। এ ছাড়া পরিবারগুলো যেন যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় এ বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করব।’

মন্তব্য