kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

খামারিদের প্রণোদনা গায়েব

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খামারিদের প্রণোদনা গায়েব

করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত গাভি ও হাঁস-মুরগির খামারিদের সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে ভুয়া তালিকা তৈরি ও টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের সেবাদানকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। টাকা নেওয়ার অভিযোগে মাঠ পর্যায়ের এক নারী কর্মীকে এরই মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। প্রণোদনা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরমান হোসেন জানান, তদন্ত করে অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল খামারিদের চার হাজার থেকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। ঘোষণার পর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরি করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সহায়তা প্রকল্পের ইউনিয়নভিত্তিক লাইভ স্টক সার্ভিস প্রভাইডাররা (এলএসপি)। তালিকায় নাম ওঠাতে গোপনে খামারিদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের এই কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শর্ত ভঙ্গ করে নিজের আত্মীয়-স্বজনের নামও তালিকাভুক্ত করেন তাঁরা।

হাটখোলা গ্রামের মুরগির খামারি সুফির আলী বলেন, ‘আমি করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রণোদনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি নিলেও আমি কোনো বরাদ্দ পাইনি। কিন্তু যাদের কোনো খামার নেই তারা টাকা পেয়ে গেছে। ধরঞ্জি ইউনিয়নে কর্মরত কর্মী গোলাম রসুল টাকার বিনিময়ে তালিকা করেছেন। তাঁর নিজের ভাইয়ের কোনো খামার না থাকলেও তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।’

এদিকে ভুয়া তালিকা তৈরি ও টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগে আওলায় ইউনিয়নের নারী কর্মী মুর্শিদা বেগমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাসান আলী। অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খামারিদের টাকা নিজের মোবাইলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বালীঘাটা ইউনিয়নের কর্মী মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হাসান আলীর কাছে তালিকা চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যারের নির্দেশ না পেলে তালিকা দেওয়া যাবে না।’ অন্যদিকে প্রণোদনা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও জানান, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য