kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ইউপি সচিবও ভোটের মাঠে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইউপি সচিবও ভোটের মাঠে

তিনি খসরু মিয়া। কর্মরত আছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে। দীর্ঘ ৩৪ বছর চাকরিজীবনে অনেক চেয়ারম্যান দেখেছেন। দেখেছেন, অনেক চেয়ারম্যান অল্প সময়েই অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সচিব পদ থেকে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় এখন তাঁর সাধ জেগেছে চেয়ারম্যান হওয়ার। আর এতে তিনি নিজ এলাকা পাশের ঈশ্বরগঞ্জে মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে দিয়েছেন পুরো এলাকা। নৌকার প্রতীক দিয়ে চাচ্ছেন দোয়া। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সামাজিক অনুষ্ঠানে।

জানা যায়, সচিব খসরু মিয়া হচ্ছেন মাইজবাগের মল্লিকপুর গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। ১৯৯৩ সালে তিনি চাকরিতে প্রবেশ করেন। বসবাস করেন জেলা শহর ময়মনসিংহের গুরুঘর মোড় এলাকায়। চাকরিজীবনে ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ছাড়াও চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে। সেখান থেকেই তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। নিয়মিতই চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। করোনার সময়ে তিনি এলাকায় গিয়ে ৩০০ মানুষকে জড়ো করে প্রকাশ্যে ৫০০ টাকা করে বিতরণ করেছেন। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ক্যালেন্ডার বিতরণ শুরু করেছেন। অনেক পোস্টারে নৌকার প্রতীক দিয়ে লিখেছেন সুশিক্ষিত, শিক্ষানুরাগী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তি। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন।

অথচ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরির বিধিমালা-২০১১ অনুযায়ী, পরিষদের কোনো কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাহায্যে চাঁদা দান বা অন্য কোনো উপায়ে সহায়তা করতে পারবেন না। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সচিব হিসেবে কর্মরত থেকে বিধিমালা উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন খসরু মিয়া। এ অবস্থায় তাঁকে নিয়ে সর্বত্রই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ বিষয়ে খসরু মিয়া বলেন, ‘ভাই রে, মানুষের তো সাধ থাকতেই পারে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা চেয়ারম্যান হওয়ার। এই জন্য টুকটাক প্রচার চালাচ্ছি। এতে তো দোষের কিছু দেখছি না। আর নির্বাচন করলে তো পদত্যাগ করেই করব।’ এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য