kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

বিদেশ সফরে ব্যস্ত কর্তারা প্লট পাচ্ছেন না মালিকরা

আরডিএর কর্মকর্তাদের গাফিলতি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশ সফরে ব্যস্ত কর্তারা প্লট পাচ্ছেন না মালিকরা

টাকা পরিশোধের এক বছরেও প্লট বুঝে পাচ্ছেন না রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বারনই প্রকল্পের মালিকরা। অথচ সেই টাকায় আরডিএর কর্মকর্তারা তিন দফায় বিদেশ সফর করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। কিন্তু কবে নাগাদ প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন প্লট মালিকরা। অন্যদিকে এখনো বেশ কয়েকটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া বাকি রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ফাঁকা প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে একাধিক সূত্র।

আরিডএ সূত্র মতে, রাজশাহী নগরীর আবাসন সংকট নিরসনের জন্য আরডিএর আওতায় নগরীর বড় বনগ্রাম এলাকায় বারনই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মেয়াদ ধরা হয় ২০১০-১৪ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় ২০১২ সালে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ আরো তিন বছর ছয় মাস বাড়ানো হয়। শেষে ১৮৯টি প্লট করে ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পের মাটি ভরাট থেকে আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর গত বছরের ৩১ মের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া মালিকদের কাছ থেকে প্লটের মূল্য বুঝে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে এই প্রকল্পের টাকা দিয়ে আরডিএর চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা তিন দফায় ৪৫ দিনের জন্য বিদেশ সফর সেরে এসেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে প্রতিটি সফরে খরচ করেছেন কোটি টাকার ওপরে। সেই হিসাবে শুধু বিদেশ সফরেই ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। প্লট মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা এই ভ্রমণ খাতে ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্লট বুঝে পাচ্ছেন না মালিকরা।

আরডিএর সূত্র মতে, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকসহ সব মিলিয়ে ১৭০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় আরডিএর মাধ্যমে। আর ১৯টি প্লট রাখা হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে এখনো মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না পাওয়ায় কয়েকটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া সম্পন্ন হয়নি।

প্লট বুঝে না পাওয়া একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক কষ্টে গত বছরের মে মাসের মধ্যেই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। কবে নাগাদ প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হবে আর কবে নাগাদ বাড়ির কাজ শুরু করা যাবে, তা ভেবে দিশাহারা সবাই। আরেক প্লট মালিক বলেন, প্লটের টাকা নিয়ে বিদেশ ঘুরে এসেছেন কর্মকর্তারা। অথচ এখনো মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালের জুনে এই প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছি। এরপর আমরা স্টেট শাখায় সেটি বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সেটি প্লট মালিকদের কেন বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তা ভূসম্পত্তি শাখা বলতে পারবে।’ আরডিএর ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বদরুজ্জামান বলেন, ‘কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, তাই প্লটগুলো বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা দ্রুত সেটি করে ফেলব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা