kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

ঘুষ না দেওয়ায় অধ্যাপকের পেনশন নিয়ে নয়ছয়

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ টি এম সোহেল একই কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম মনোয়ার হোসেনের কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের দাবি করা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় অবসর গ্রহণের ১৩ মাস পার হলেও পেনশন পাচ্ছেন না বলে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক কলম সৈনিকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অধ্যাপক এস এম মনোয়ার হোসেন। এ সময় ওই কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি অবসর নেন। এরপর ১ জুলাই বর্তমান অধ্যক্ষ বরাবর পেনশনসংক্রান্ত ফাইল জমা দিতে গেলে তা নেননি। এভাবে কয়েক দফা ফাইল জমা দিতে গেলেও অধ্যক্ষ সোহেল তা গ্রহণ করেননি। পরে বাধ্য হয়ে ডাকযোগে পেনশনসংক্রান্ত ফাইল বর্তমান অধ্যক্ষ বরাবার পাঠালেও তিনি আমলে নেননি। এরপর কয়েক দফা চিঠি দিলে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাইলটি অসম্পূর্ণ আছে উল্লেখ করে তাঁকে পাল্টা চিঠি দেন। এভাবে পাল্টাপাল্টি চিঠি আদান-প্রদানের পর অবশেষে ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পেনশনের ফাইলটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় মাউশিতে পাঠান অধ্যক্ষ সোহেল। এ কারণে তাঁর পেনশন অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন আরো অভিযোগ করেন, প্রকৃতপক্ষে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ এমনটা করছেন। নিজের আস্থাভাজন শিক্ষক সাবেক উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে ঘুষের প্রস্তাব দেন অধ্যক্ষ সোহেল।

এ বিষয়ে সাবেক উপাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ অডিট চলাকালে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সুলতান মাহমুদ আমার কাছে এসে অধ্যাপক মনোয়ার স্যারের পেনশন ও অডিট নিষ্পত্তি করতে ৩০-৩২ লাখ টাকা অধ্যক্ষের টেবিলে রাখতে বলেন।’

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ টি এস সোহেল বলেন, ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি যথাযথ নিয়মে প্রফেসর মনোয়ার হোসেনের পেনশনসংক্রান্ত ফাইল মাউশিতে পাঠিয়েছি। বাকি কাজ তাদের। এখানে আমার কিছুই করার নেই।’