kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

চিকিৎসকশূন্য বার্ন ইউনিট

আজিম হোসেন, বরিশাল   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডে গত বছর একটি বেসরকারি হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক এম এ আজাদ সজলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনিই ছিলেন বরিশাল মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের একমাত্র চিকিৎসক। তাঁর মৃত্যুর পর গত বছরের মে মাস থেকে এই বিভাগের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ।

চিকিৎসকশূন্যতায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ফলে আগুনে পোড়া রোগীদের বাধ্য হয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে ঢাকায়। 

হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের নার্স আয়শা আক্তার চাঁদনী বলেন, এই বিভাগে ৩০টি বেড। তবে সব সময় ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকত। চালু হওয়ার পর থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত কয়েক হাজার আগুনে পোড়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে এখানে। বরিশাল বিভাগে আগুনে পোড়া রোগীদের একমাত্র ভরসা ছিল এই বার্ন ইউনিট। এখন হাসপাতালের ‘সার্জারি ওয়ার্ডে’ আগুনে পোড়া রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের বেশির ভাগকেই ঢাকায় পাঠাতে হয়।

গত বুধবার হাসপাতালের প্রধান ফটকে কথা হয় পটুয়াখালী থেকে আসা রমিজ উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে। তিনি জানান, রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলার আগুনে দগ্ধ হন তাঁর স্ত্রী। বরিশাল মেডিক্যালের চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে বলেছেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেনও বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ নিয়ে অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আগুনে পোড়া রোগীদের শতভাগ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও চিকিৎসক নেই। এ হাসপাতাল ৫০০ থেকে এক হাজার বেডে উন্নীত করা হয়েছে অনেক আগে। তবে সব জায়গায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে সামাল দিতে হচ্ছে ১৫০ বেডের করোনা ইউনিট। অথচ আমাদের ২২৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১২৬টিই শূন্য। চিকিৎসক সংকটের মধ্যে জোড়াতালি দিয়েই চালাতে হচ্ছে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।’ বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সেবা আবার কবে নাগাদ চালু হতে পারে জানতে চাইলে ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘সার্জারি বিভাগের অধীনে ২০১৫ সালে এটি চালু করা হয়েছিল। চিকিৎসক সংকট সমাধানের জন্য জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এখন আমি শুধু পুনরায় প্রস্তাব পাঠাতে পারি। তবে তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা