kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

কংসতীরে সর্বনাশা ভাটা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অবৈধ ইট ভাটা

হাওরাঞ্চল (নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কংসতীরে সর্বনাশা ভাটা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে কংস নদের তীরে অবৈধভাবে দুটি ইটভাটার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যখন-তখন ভাটা দুটির মাটি আর ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে সদ্য খনন করা নদটি যেমন দখল হয়ে যাচ্ছে, তেমনি নাব্যতাও হারাচ্ছে। তা ছাড়া ভাটা দুটির কারণে আশপাশের পরিবেশসহ জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৬০টির মতো ইটভাটা আছে। এর মধ্যে ৩৬টি ভাটাই অবৈধ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কংস নদের তীরে গড়ে ওঠা ‘ডিসিএস’ ভাটাটির মালিক মোহনগঞ্জ পৌর শহরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার রায়। এ সময় দেখা যায়, ভাটাটির দক্ষিণ পাশে সামাইকোনা গ্রাম, কালীমন্দির আর উত্তর পাশে সামাইকোনা বাজার ও মুহাম্মদীয় হাফিজিয়া মাদরাসা আছে। পূর্ব পাশে আছে মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়ক। পশ্চিম পাশে অর্থাৎ নদের ওপারে ১০০ গজের ভেতর পড়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরের ধর্মপাশা গ্রাম ও থানা কার্যালয়। আধাকিলোমিটার দূরে সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ‘একিউসি’ ভাটাটির মালিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রভাবশালী এ ব্যক্তির বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলা সদরের দশধরী গ্রামে। ২০০০ সালে ভাটাটির লাইসেন্স নেন তিনি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নও করেন। কিন্তু ভাটার কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় তালেব আলীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের পর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আর ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন থেকেও ভাটার লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না—মর্মে লিখিতভাবে আব্দুল কাইয়ুমকে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ভাটাটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, যাঁরা প্রকাশ্যে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাঁরা খুবই প্রভাবশালী। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।

সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, ভাটার কালো ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুল হান্নান জানান, শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সর্দি-কাশি আর শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই ভাটাটি বন্ধ করা খুবই জরুরি।

একিউসি ভাটার মালিক আব্দুল কাইয়ুম দাবি করেন, ‘(ভাটা চালাতে) এমপি রেবেকা মমিন আমাকে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন।’ তবে এমপি রেবেকা এই ধরনের কোনো অনুমতি দেননি বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ডিসিএস ভাটার মালিক বিপ্লব কুমার বলেন, ‘নিয়ম মেনে (আমি) দীর্ঘদিন ধরে ভাটার ব্যবসা চালিয়ে এলেও দুই থেকে তিন বছর ধরে বিভিন্ন কারণে সরকার লাইসেন্স নবায়ন করছে না। আর এভাবেই যে কয়দিন চালাতে পারি। তবে আমরা শিগগিরই ভাটার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি।’

ডিসিএস ভাটা প্রসঙ্গে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার প্রভাব থেকে আমরাও মুক্ত নই।’ মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধভাবে কোনো ভাটা চলার সুযোগ নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিকুন্নাহার জানান, জেলায় ২৪টি ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যগুলোর কোনো ছাড়পত্র নেই। তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতি ভাটাকেই তাদের লাইসেন্স নবায়ন করাসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা