kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

ওসির নামে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওসির নামে দুদকের মামলা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার তৎকালীন ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল রবিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমিন এই মামলা করেন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাকিল বর্তমানে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন নুরুল। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফলাফল পরিবর্তন করে মো. আব্দুর রহমান পটলকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নুরুলসহ আরো তিনজন পুঠিয়া সহকারী জজ-১ম আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর থেকে পটলসহ অন্য আসামিরা নুরুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন নুরুল। পরদিন ১১ জুন সকালে পুঠিয়া এএসএস ইটভাটায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় সেদিন দুপুরে তাঁর মেয়ে নিগার সুলতানা আটজনের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে থানার তৎকালীন ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এ অবস্থায় সাকিল এজাহারটি রেকর্ডভুক্ত করেননি। পরে তাঁর কথামতো এজাহার থেকে বিষয়টি বাদ দেন নিগার। এ সময় কিছু সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর রেখে দেন তৎকালীন ওসি সাকিল।

পরে নিগার থানা থেকে এজাহার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর কপি সংগ্রহ করে তাতে পরিবর্তন দেখতে পান। এর প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন তিনি। পরে উচ্চ আদালত থেকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তালুকদার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে এজাহার পরিবর্তের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে উল্লেখ করা হয়, থানার ওসির মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর, যা দণ্ডবিধির ধারা ১৬৬ ও ১৬৭ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন করেন সাকিল। কিন্তু আপিল বিভাগ গত বছরের ১ মার্চ আগের দেওয়া রায়ই বহাল রাখেন। পাশাপাশি সাকিলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার অনুরোধ করা হয়।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দাবি করে, সমকামিতায় বাধ্য করার ক্ষোভে শ্রমিক নেতা নুরুলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতকে গ্রেপ্তার করে যশোরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা