kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

কান ফাটানো মাইক

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কান ফাটানো মাইক

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। গত ১১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে চলছে প্রচার-প্রচারণা। প্রতিদিন দুপুর ২টা বাজতে না বাজতেই প্রার্থীদের পক্ষে শুরু হয় মাইকিং। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। আর টানা মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। তাদের মতে, মাইকিংয়ের সময়সীমা কমিয়ে আনা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৪.১৬ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভায় ৫৫ হাজার মানুষের বসবাস। ভোটার আছে ২৪ হাজার ১০১ জন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৩ জন লড়ছেন।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এ নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক, শিল্প—এই পাঁচটি এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ও রাতে ৪০, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ও রাতে ৪৫, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবল শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। কিন্তু নলছিটি পৌর এলাকায় তা মানা হচ্ছে না। শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হলেও যিনি মাইকিংয়ের দায়িত্বে থাকেন তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে কতটুকু শব্দ ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে চারজন কাউন্সিলর প্রার্থী ও দুজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং চলে। বিভিন্ন সড়কে কম করে হলেও সাতটি মাইকে প্রচারণা চালানো হয়।

নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী কানিজ ফাতেমা অভিযোগ করে, ‘মাইকের উচ্চ শব্দের কারণে পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। দুপুরের পর থেকে শব্দে কান ফেটে যায়।’ ক্ষোভের সঙ্গে হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘শব্দদূষণে আমরাই অতিষ্ঠ, রোগীদের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।’ 

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আবুয়াল হাসান বলেন, ‘নিয়মিত শ্রবণে সাধারণত ৬০ ডেসিবল শব্দের তীব্রতায় মানুষ সাময়িক বধির ও ১০০ ডেসিবল স্থায়ী বধির হয়ে যেতে পারে। মাইকিংয়ের শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত করে। এতে শ্রবণশক্তি হ্রাস ছাড়াও হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে। তবে শব্দদূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। শব্দদূষণ তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়।’ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম আছে মাঠে, তারা প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা