kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

হামের অরক্ষিত টিকা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হামের অরক্ষিত টিকা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে দুই পোর্টারের ঘরে ও সাইকেলে টিকার বাক্স। শুক্রবার রাতে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পোর্টারদের কাছে হাম-রুবেলার টিকা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট) ইপিআই আব্দুর রাশিদ এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ।

জানা যায়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশের মতো নান্দাইলেও হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৯৩৭টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হচ্ছে। ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি এ কার্যক্রম শেষ হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষিত আছে।

নিয়ম আছে, কার্যক্রম শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে পোর্টাররা ভ্যাকসিন ক্যারিয়ারের মাধ্যমে কেন্দ্রে টিকা পৌঁছে দেবেন। অন্যথায় টিকার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এই টিকা প্রয়োগে শিশুর প্রাণহানিরও শঙ্কা থাকে।

অথচ এমটি ইপিআই রাশিদ গতকাল শনিবার সকালের পরিবর্তে আগের দিন শুক্রবার রাতেই চারটি ইউনিয়নের মোট ১২টি ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার দুই পোর্টার মো. হাতেম মিয়া ও মো. শরিফ মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন।

খবর পেয়ে এই প্রতিনিধি শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আঁচারগাঁও ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে পোর্টার শরিফের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি দেখেন, বারান্দায় সাইকেলে ছয়টি ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার ঝুলছে। ঘুম থেকে শরিফকে ডেকে তুলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এইডি (টিকা) কহন, কিবায় আনন লাগে আর রাহন লাগে তা আমি জানি না।’ এর পরপরই তিনি সাইকেল থেকে ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার নামিয়ে ঘরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে আরেক পোর্টার হাতেমের পোড়াবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতর আলনার নিচে কয়েকটি লুঙ্গি দিয়ে ছয়টি ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার ঢেকে রাখা হয়েছে। একপর্যায়ে হাতেম বলেন, ‘আইজ (শুক্রবার) খুব শীত, নষ্ট অইতো না।’ এর মধ্যেই তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। কথা শেষে তিনি জানান, ‘এমটি ইপিআই আব্দুর রাশিদ তাঁকে বলেছেন, এখনই ভ্যাকসিন ক্যারিয়ারগুলো পৌঁছে দিতে। না হলে বিপদ আছে।’ পরে তিনি সাইকেলে করে ক্যারিয়ারগুলো নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে রওনা হন। রাত ১টার দিকে জানা যায়, টিকাগুলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্দিষ্ট ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এমটি ইপিআই রাশিদের মোবাইল নম্বরে একাধিক কল দিলেও তিনি ধরেননি। জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আগের দিন টিকা (ফ্রিজের) বাইরে রাখা কোনোমতেই সম্ভব নয়। ফ্রিজে রাখতে হয়। তা ছাড়া দায়িত্বরত এমটি ইপিআইকে ভোরে ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার পোর্টারদের কাছে দিতে হবে। এটা ব্যাপক অবহেলা, অনিয়ম। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও ডা. মাহমুদুর রশিদ জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা