kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

বগুড়ায় মুক্তিপণ না পেয়ে প্রবাসীর শিশুপুত্রকে হত্যা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার গাবতলীতে মুক্তিপণ না পেয়ে এক প্রবাসীর শিশুপুত্রকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের পর পরই থানায় জিডি করা হলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। অবশেষে অপহরণের প্রায় দেড় মাস পর গত বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণকারীদের ফোনে দেওয়া তথ্যে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হত্যার শিকার শিশুপুত্র হানযালা (৬) গাবতলী উপজেলা রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিণ্টু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে খেলতে গেলে শিশু হানযালাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই থানায় জিডি করা হয়। ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে দুই দিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন বাবা পিণ্টু মিয়া। এদিকে অপহরণের পর শিশুর মাকে ফোন করে প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। শিশুটির মা-বাবা অপহরণকারীর মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে থানায় জিডি করেন। কিন্তু ছয় সপ্তাহেও শিশুটিকে উদ্ধার বা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি গাবতলী মডেল থানার পুলিশ।

এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা পূর্বের নম্বর থেকেই শিশুটির মাকে পুনরায় ফোন করে জানায়, টাকা না দেওয়ায় তাঁর ছেলেকে হত্যা করে তাঁদের বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে রেখেছে। খবর পেয়ে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে গাবতলী থানা পুলিশ। হত্যার পর শিশুটির মরদেহ পলিথিনে মুড়িয়ে ইট বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।

গাবতলী মডেল থানার ওসি নূরুজ্জামান জানান, থানা পুলিশকে জানানোর পর কয়েক দফা মোবাইলের সিডিআর বের করা হয়েছে। কিন্তু ভুয়া নাম ব্যবহার করায় সঠিকভাবে লোকেশন ট্যাগ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও শিশুটিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে পুলিশ। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে জোর চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা