kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

লাগামহীন ব্যয়, হলফ ভঙ্গ

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লাগামহীন ব্যয়, হলফ ভঙ্গ

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি। মেয়র পদে প্রার্থীরা হলফনামায় নির্বাচনী ব্যয়ের যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে।

নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ খান। এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাওলানা মো. শাহ জালাল। আইনি জটিলতায় আটকে আছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র কে এম মাছুদ খানের মনোনয়ন।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া মেয়র পদপ্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়। নৌকা প্রতীকের আবদুল ওয়াহেদ খান নিজেকে স্বশিক্ষিত লিখেছেন। তাঁর নামে ফৌজদারি কোনো মামলা নেই। তাঁর কাছে জমা টাকা রয়েছে দুই লাখ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ পাচ্ছেন বছরে এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা, জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালে বছরে পেতেন তিন লাখ টাকা। তাঁর মৎস্যখামার রয়েছে। এখান থেকে তিনি বছরে পাচ্ছেন ২৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে তাঁর কোনো জমানো টাকা নেই। স্বর্ণালংকারও নেই। তবে সোনালী ব্যাংক থেকে নিজের নামে ঋণ নেওয়া আছে তিন লাখ টাকা, যৌথভাবে আছে পাঁচ লাখ টাকা। এদিকে হলফনামায় তিনি নির্বাচনে ঘরোয়া বৈঠক দেখিয়েছেন ১০টি। অথচ ২০টিরও ওপরে তাঁর নির্বাচনী বৈঠকের সময়সূচি পাওয়া গেছে। ১০টি নির্বাচনী বৈঠকে তিনি খরচ করবেন ১০ হাজার টাকা এবং ভেন্যুর ভাড়া ৯ হাজার টাকা। অথচ উঠান বৈঠক করছেন তিনি উন্মুক্ত স্থানে। সেখানে ভেন্যুর কোনো ভাড়ার প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি উঠান বৈঠকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক অংশ নিচ্ছে। তাঁদের একটি মিষ্টি ও একটি রুটি খাওয়ানো হচ্ছে। এতে ২০টি উঠান বৈঠকে তাঁর খাওয়া বাবদ খরচ হচ্ছে দেড় লাখ টাকা।

আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, ‘আমার হলফনামায় যে তথ্য দেওয়া আছে, তা সম্পূর্ণ সত্য। নির্বাচনী ব্যয় আচরণবিধি অনুযায়ী করা হচ্ছে। বাড়তি কোনো খরচ নেই। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নলছিটি পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা গড়ে তুলব। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় নিয়ে যাব। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, মাদক থেকে মুক্তি, সন্ত্রাস বন্ধসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. মজিবুর রহমান কোনো রকমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে শহরে হ্যান্ডবিল বিতরণ করতে দেখা গেছে। তিনি কোনো উঠান বৈঠক কিংবা সভা-সমাবেশ করছেন না। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত থাকায় তিনি জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন না বলে দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। হলফনামায় তিনি এসএসসি পাস লিখেছেন। তাঁর নামে ফৌজদারি অপরাধে তিনটি মামলা রয়েছে, যা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তাঁর পেশা ইট উৎপাদনকারী। এখান থেকে বছরে তিনি সাত লাখ ৬৬ হাজার ৬৬০ টাকা আয় করেন। নগদ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংকে জমানো টাকা নেই, তবে ২০ ভরি সোনার গয়না আছে। তাঁর কৃষিজমি দুই একর ও অকৃষি জমি ১৩ শতাংশ। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে তিনি নিজের নামে সিসি ঋণ ৪০ খাল টাকা ও যৌথভাবে কৃষি ব্যাংক থেকে নিয়েছেন এক লাখ টাকা। ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ তিনি এখন পর্যন্ত সময়মতো পরিশোধ করছেন।

মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। সরকার দলীয় প্রার্থী প্রতিদিন মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছেন। এর মধ্যে আমরা যেখানে যেভাবে পারছি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। তবে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি শতভাগ বিজয়ী হব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা