kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

দুই শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে এবার আমরণ অনশন শুরু করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। বাংলা ডিসিপ্লিনের মোবারক হোসেন নোমান এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুল হোসেন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করে আমরণ অনশন শুরু করেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়ও তাঁদের অনশন চলছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, দুই শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচারণ এবং তদন্তে অসহযোগিতার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বেতন-ফি কমানোসহ পাঁচ দফা দাবি আদায় করতে গিয়ে প্রশাসনের রোষানলে পড়েছেন তাঁরা।

গত বছর ১ জানুয়ারি পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করার সময় দুই শিক্ষক গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই দুই শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড ইমামুলকে দুই বছর এবং নোমানকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে।

মোবারক হোসেন নোমান বলেন, ‘প্রশাসন যদি আমাদের ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে না নেয়, তবে মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের অনশন কর্মসূচির অবসান ঘটবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক শরীফ হাসান লিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন মেনেই একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের এই সাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তিন শিক্ষককে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু : এদিকে শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ ও গুরুতর অসদাচরণের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২১১তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই তিন শিক্ষক হলেন বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল, একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশে তাঁদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল বলেন, ‘যেসব সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁদের পরীক্ষা করার সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি।’

প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী বলেন, ‘নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য আইনত আমার ১০ দিন সময় পাওয়া উচিত ছিল।’

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, যেহেতু তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে তাই এ বিষয়ে আমার চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। সার্বিক বিষয়ে যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায় তবে হয়তো পরবর্তী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা