kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

১৮ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৮ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বেগুনগ্রামের চিশতিয়া পীরের আস্তানায় খাদেমসহ পাঁচ খুনের মামলার বিচারকাজ দীর্ঘ ১৮ বছরেও শেষ হয়নি। জেলার চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি রাতে বেগুনগ্রাম চিশতিয়া পীরের আস্তানায় খাদেম, বাবুর্চিসহ পাঁচজনকে জবাই করে নগদ টাকাসহ আস্তানার প্রায় ৬৩ হাজার টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন আস্তানার খাদেম স্থানীয় ধাপশিকটা গ্রামের বৃদ্ধ নুরউদ্দিন, হারুঞ্জা গ্রামের শফির উদ্দিন ফকির, আক্কেলপুরের জালালপুর গ্রামের বাবুর্চি দুলাল মিয়া, ক্ষেতলালের বাঘাপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড় বেলঘড়িয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন।

ঘটনার পরের দিন ২১ জানুয়ারি চিশতিয়ার সেক্রেটারি ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা কসবা (গ্যাংগাইর) গ্রামের আব্দুল আজিজ খান অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কালাই থানায় ডাকাতির মামলা করেন। পরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামির তালিকায় সংযুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতা-সমর্থকরাও আছেন। এ মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও বর্তমানে আদালত থেকে তাঁরা জামিনে আছেন।

পরবর্তী সময়ে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও আব্দুল আউয়াল ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেশের অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে বেগুনগ্রামের পীরের আস্তানায় পাঁচ খুনের ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এর আগে শাহজালাল বাচ্চু ও হযরত আলী নামের আরো দুজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই সব জবানবন্দি, সাক্ষী-প্রমাণ এবং তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ট্রাভেল ব্যাগে লেখা নামের আলোকে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুরের সিআইডি ক্যাম্পের তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক জালাল উদ্দিন আদালতে ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে চারজন জেএমবির সক্রিয় নেতা থাকলেও অন্যরা স্থানীয় গ্রামবাসী। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অন্য মামলায় ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও আব্দুল আউয়ালকে মামলার বিচারকাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জেএমবির সাতজনসহ ২৪ জন আসামিকে এ মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় মোট সাক্ষী করা হয় ৭১ জনকে। কিন্তু অভিযোগপত্র দায়েরের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে বছরের পর বছর মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাদী ও মামলার সঙ্গে জড়িতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলোচিত এ মামলাটি বর্তমানে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষী পর্যায়ে রয়েছে। মামলার ৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে গত ১২ বছরে মাত্র ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী ২৯ এপ্রিল।

এ ঘটনায় নিহত বাবুর্চি আক্কেলপুরের জালালপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার অসুস্থ মা ওবেলা বিবি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আর কয় বছর লাগবে হামার সোনা বাবা (নিহত ছেলে দুলাল) হত্যার বিচারের। ১৮ বছর তো হলো। হামি কি দেখে যাওয়া পারমো?’

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি প্রথমে করা হয় ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা হিসেবে। পরে তদন্তের মাধ্যমে চারজন জঙ্গিসহ ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু সময়মতো আদালতে সাক্ষী-আসামি হাজির না হওয়ায় ও করোনার কারণে বিচারকাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচারকাজ শেষ হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা