kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

মাঘের শীতে কাবু উত্তরাঞ্চলের মানুষ

রংপুর অফিস, কুড়িগ্রাম ও উলিপুর প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাঘ মাসের প্রথম দিন শুক্রবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ‘মাঘের জারে (ঠাণ্ডায়) বাঘ কান্দে’—রংপুর অঞ্চলের এই প্রবাদের প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে এরই মধ্যে। বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ নদীপারের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। প্রচণ্ড শীতের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় ক্ষেতমজুররা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শীতের দাপটে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় যেন স্তব্ধতা নেমে এসেছে গোটা অঞ্চলে।

সরেজমিন গতকাল সকালে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। শীতের কবল থেকে বাঁচার জন্য গ্রামাঞ্চলে লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

গতকাল রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মৃদু এই শৈত্যপ্রবাহ কমপক্ষে আরো দু-তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও হলোখানার কয়েকটি গ্রামে গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, খড়কুটো জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়ার চেষ্টা করছে ঠাণ্ডায় কাবু শিশু-কিশোররা। দিনমজুররা কাজে যেতে পারছে না। চারদিক কুয়াশাচ্ছন্ন।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল আকাশ। হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে ঘরে পড়ে আছে শ্রমজীবী মানুষ। শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন বিপাকে। প্রত্যন্ত এলাকায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। একই অবস্থা উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার মানুষেরও।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, ঠাণ্ডা বেড়ে যাওয়ায় সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় ছয় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন ধরে এই এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা আরোও তিন দিন অব্যাহত থাকবে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার জানান, শীত বাড়ায় কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমানিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ অবস্থায় সকালে ও সন্ধ্যার পর শিশু-বৃদ্ধদের ঘরের বাইরে বের হতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা