kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

সরকারি টাকায় ভাগ্যবদল

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি টাকায় ভাগ্যবদল

আবু হেনা সাকিল

খাসজমিতে বানিয়েছেন বাগানবাড়ি। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আর মাছের ঘের এখন হাতের মুঠোয়। চলেন প্রাইভেট কারে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল এসব করেছেন দুর্নীতির মাধ্যমে। কারণ তিনি পৈতৃক সূত্রে সামান্য জমির মালিক।

এসবের প্রতিকার চেয়ে সাতজন ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা তোলা হয়েছে। কোনো কাজ না করে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে এডিপি ও এলজিএসপির টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ৪০ দিনের কর্মসূচিতে টাকা নিয়ে লোক নিয়োগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। সুবিধা নিয়ে ধনী লোকদের দিয়েছেন ভিজিডি কার্ড। ১০ টাকা কেজি দরের চাল পেয়েছে ধনী লোকেরা। পরিষদের সদস্যদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়নি। সরকারি জমিতে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি।

গাজীপুর গ্রামের অ্যাডভোকেট জহুরুল হক, বুড়াখারহাটি গ্রামের মইনুর হোসেন ও পুইজালা গ্রামের প্রভাষক দীপংকর বাছাড় জানান, চেয়ারম্যান ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড দিয়েছেন ঠাকুর দাস, মানিক চক্রবর্তী, রাসেদ সরদার ও রহিমা খাতুনকে। এঁরা অনেক জমির মালিক। তাঁদের আছে দালানবাড়ি। ভারতে বসবাসরত বিরেন্দ্রনাথ সানা কার্ড পেয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল খালেকও পেয়েছেন। এ ছাড়া পুইজালা গ্রামের রমেশচন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী কণিকা মণ্ডলের টিপসই জাল করে দুই বছর ধরে ভিজিডির চাল তোলে চেয়ারম্যানের লোকজন।

ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান ও দিবাকর সেন জানান, ৪০ দিন কর্মসূচির কাজ ৩০ দিনে শেষ করা হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি ও সম্পাদক যাঁদের করা হয়েছে, তাঁরা এসবের কোনো কিছুর খোঁজ রাখেন না। তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। আবার এসব শ্রমিক দিয়ে ঘেরের বেড়িবাঁধ ও বাগানবাড়িতে কাজ করানো হয়েছে। একই শ্রমিক পাঁচ বছর ধরে এই কাজ করেছেন। এ ছাড়া এডিপি ও এলজিএসপির আওতায় ভুয়া প্রকল্পের তালিকা করে লাখ লাখ টাকা হাতানো হয়েছে।

ইউপি সদস্য মজিদা খানম, অলিউল্লাহ ও নাজমুল হুদা জানান, রয়ার সিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। আবার মহিষকুড়া বিজিএম ক্লাবের মাঠ ভরাট করা হয়েছে বলে তিনবারে ২৪ টন চাল তোলা হয়েছে। বুড়াখারটি ইয়াং ক্লাব, কাঁকড়াবুনিয়া সবুজ সংঘ, শহীদ মিনার নির্মাণ, নাকতারা পাঞ্জেগানা মসজিদ সংস্কার করার নামে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। বকচর ডিজিটাল রেডিয়েন্ট অ্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব সংস্কার করার কথা বলে তিনবার টাকা তোলা হয়েছে। আর এসব প্রকল্পের বেশির ভাগ সভাপতি চেয়ারম্যান আর সম্পাদক ও তাঁর গাড়িচালক আবদুল্লাহ আল মুামন।

ইউপি সদস্যরা জানান, সম্মানি ভাতার সরকারি টাকা না পেয়ে তারা সম্প্রতি সাতড়্গীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শ্রীউলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম বুলু জানান, আবু হেনা জামায়াতের সমর্থন নিয়ে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তিনি দলের নেতাকর্মীসহ এলাকার উন্নয়নে কোন উপকারে আসেন না। সরকার উন্নয়ন করার জন্য যে বরাদ্দ দিয়েছে সব তার পকেটে গেছে। ইউনিয়নের এমন অবস্থা রোগী নিয়ে বাড়ি থেকে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত নেই।

শ্রীউলা ইউপি চেয়াম্যানের আবু হেনা সাকিল বলেন, ‘নির্বাচন এলে কিছু লোক বিরোধিতার স্বার্থে এসব করে। এসব অভিযোগ মিথ্যা। তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।’

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানান, লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তন্ত কার্যক্রম চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা