kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গলাচিপা

দখলবাজদের মামলায় বিপর্যস্ত কৃষক

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরাঞ্চলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দখলবাজদের পাল্টা মামলায় বিপর্যস্ত কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন চরে জমি নিয়ে পাল্টা মামলায় সরকারি কর্মকর্তাসহ অন্তত দুই হাজার কৃষককে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া চরের খাসজমির ধান কাটা নিয়ে দখলবাজদের হাতে খুন হয়েছেন এক কৃষক। ফলে এসব এলাকার চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গলাচিপার চরবিশ্বাসের চরওহাবের ভূমিহীন কৃষক আবুল কাসেম ফকির (৬৫) জানান, প্রতি বছরই ফসলের মৌসুমে উপজেলার চরবাংলা, চরকাজল, চরবিশ্বাস, গোলখালী, আমখোলা, দড়িবাহের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় জোদদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়ায় শান্ত চরাঞ্চল অশান্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে আহত হয় শত শত সাধারণ কৃষক।

জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ বছর চরকাজলের চরশিবা গ্রামে লাঠিয়াল-জোদদারদের প্রভাবে ফারুক খানসহ দুই পরিবারের ভিটে ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলেও প্রতিনিয়ত হামলা-হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছে তারা। গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে কালাম মাঝি ও নাজিমের নেতৃত্বে দখলবাজরা ফারুক খানের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় ফারুক খান বাদী হয়ে গত ১৯ আগস্ট আবদুল হক, কালাম মাঝি, মো. নাজিম ও আব্দুল লতিফ খানকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ এরই মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও আতঙ্ক কাটেনি ফারুক খানের। এ ব্যাপারে মামলার বাদী ফারুক খান বলেন, ‘পুলিশ চার্জশিট জমা দেওয়ার আগেই কালাম মাঝিরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা পাল্টা মামলা করে হয়রানি করছেন।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা-চরফ্যাশন উপজেলার সীমানাবিরোধীয় চরওহাবের জমি উদ্ধার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান জানান, চরওহাবের জমি নিয়ে চার দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। কৃষকদের সঠিক কাগজপত্র থাকলেও তা মানতে চায় না দখলবাজরা। গত ২১ অক্টোবর কৃষকদের কাঁচা ধান জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছিল চরফ্যাশনের জোদদারচক্র। এতে বাধা দিলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এ সময় কমপক্ষে ১৮ জন কৃষককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এর মধ্যে কৃষক কাসেম মৃধার মৃত্যু হয়েছে। এরপরেও থেমে নেই জোদদাররা। বিভিন্নভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন তাঁরা। এর আগে গত ২০১৯ সালে পটুয়াখালী ও ভোলার দুই জেলা প্রশাসকসহ ১২ সরকারি কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করেন চরফ্যাশন এলাকার আরেক দখলবাজ। এ মামলা ভোলার চরফ্যাশনের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এখনো চলমান। এ ছাড়াও শুধু চরওহাবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ১২টি মামলা চলমান। এতে কমপক্ষে দুই শতাধিক আসামি রয়েছে। এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার ওসি মো. মনিরুল বলেন, ‘চরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম টহল দিচ্ছে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা