kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

গ্যাংয়ের সহায়তায় আমার কলেজের জমি দখল করে রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজান

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

সেলিনা হোসেন কথাসাহিত্যিক সভাপতি, হলতা-ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ

বরগুনার বামনার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন নতুন নতুন কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে। মারধর, ছিনতাই, জমি দখল, হুমকি, ইভ টিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এই গ্যাংয়ের সদস্যরা। অভিযোগ আছে, এসব অপরাধীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ দিচ্ছেন উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার সবচেয়ে বেশি গ্যাং রয়েছে ডৌয়াতলা ইউনিয়নে। ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধার বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে দুজনে দুটি গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে গ্যাংয়ের সদস্যরা। ডৌয়াতলায় সংঘটিত সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এই দুই গ্রুপের সদস্যরা সব সময়ই জড়িত। 

ডৌয়াতলা ইউনিয়নের গ্যাং কালচার সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে হলতা-ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজের সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘এখানে কিশোর গ্যাং বেশ সক্রিয়। আমরা ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করি। আর তাঁরা নির্বাচিত হয়ে নিজেদের ঢাল হিসেবে ছোট ছোট ছেলেকে দিয়ে গ্যাং তৈরি করেন। নিজেদের রাজনীতির মাঠের লাঠিয়াল হয়—এই কোমলমতি সন্তানরা। গ্যাংয়ের সহায়তায় আমার কলেজের জমি দখল করে রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজান। এখন সেখানে বাসের কাউন্টার নির্মাণ করে দিয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা বাধার সৃষ্টি করলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’

ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘এ ইউনিয়নের সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়।’ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আমি তিনবার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি কখনো কিশোরদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করিনি। বরং কোনো গ্রুপ সৃষ্টি হলেও আমি তা কঠোর হস্তে দমন করেছি।’ এ ব্যাপারে বামনা থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা