kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘তোর মোটরসাইকেলটি পছন্দ, খেয়ে ফেলব’

যশোরে আটক আসামির মোটরসাইকেল উধাও

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘তোর মোটরসাইকেলটি পছন্দ, খেয়ে ফেলব’

মোটরসাইকেলে ফেনসিডিলসহ একজনকে আটকের পর মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু মোটরসাইকেল জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে। আসামি জামিনে বাড়ি এসে মোটরসাইকেলের সন্ধান করার পর এ ঘটনা জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ফেনসিডিল সেবনকারী ইমরান হোসেন রনিকে (২০) গাতিপাড়া বিজিবি চেকপোস্ট থেকে একটি অ্যাপাসি মোটরসাইকেল, দুই বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়। বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। যুবককে ১ নভেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়। জামিন পেয়ে তিনি মোটরসাইকেলের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গাড়িটি থানায় জমা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা গাড়িটি বিজিবির এক সদস্যকে চালাতে দেখেছে বলে অভিযোগ করে।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন রনি জানান, বিজিবি পোস্টে তল্লাশি করে দুই বোতল ফেনসিডিল পায়। বিজিবি সদস্যরা গাতিপাড়া পোস্ট থেকে গাড়িতে করে তাঁকে ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাঁর হলুদ রঙের একটি অ্যাপাসি আরটিআর মোটরসাইকেল ওই পোস্টে রেখে দেওয়া হয়। এ সময় বিজিবির নায়েক বাবুল বলেন, ‘তোর মোটরসাইকেলটি আমার পছন্দ। আমি খেয়ে ফেলব।’ এরপর জেলখানা থেকে ১৮ দিন পর জামিন পেয়ে বাড়ি এসে মোটরসাইকেলের সন্ধান করেন। বিজিবি সদস্য বাবুলের মোবাইল ফোনে কল করেন। তখন তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরে ওই নম্বর থেকে কল করে বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করিস না।’

ঘটনার সময় উপস্থিত শিমুল নামের এক যুবক তাঁর একটি ভিডিও সাক্ষাতে বলেন, ‘রনির কাছে একটি অ্যাপাসি গাড়ি ছিল। সে গাতিপাড়ায় একটি হলুদ রঙের গাড়ি, ফেনসিডিলসহ আটক হয়।’

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ জানান, আসামির সঙ্গে কোনো মোটরসাইকেলের মামলা হয়নি। থানায় কোনো মোটরসাইকেল জমা হয়নি।

এ ব্যাপার বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি গাড়িচালক। আমি ওই আসামিকে গাড়িতে নিয়ে আসি। মোটরসাইকেল অন্য কেউ নিয়ে এসেছে কি না, আমি জানি না। টহল কমান্ডার বলতে পারবে, গাড়ি কী হয়েছে?’

ওই জায়গায় ডিউটিরত নায়েক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘যখন তাকে আটক করা হয়, সে সময় তার কাছে কোনো মোটরসাইকেল ছিল না। আমাকে এ বিষয়ে ফোন দেবেন না।’

বেনাপোল ক্যাম্প কম্পানি কমান্ডার সুবেদার হারাধন বলেন, ‘আমি ওই সময় এখানে ছিলাম না। বিষয়টি জেনে আপনাকে পরে জানাব।’

ভুক্তভোগী রনির বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এ বিষয়টি আমি যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে জানিয়েছি।’

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা বলেন, ‘বিজিবি এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাব। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা