kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ফুলবাড়ী পৌর নির্বাচন

নৌকায় চড়লেন বিদ্রোহী

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকায় চড়লেন বিদ্রোহী

গত পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে এবার দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভায় তা মানা হয়নি। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি খাজা মঈনুদ্দিন। বিগত নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই।

নেতারা জানান, গোপনে রেজল্যুশন করে কেন্দ্রে একক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করায় তাঁকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে পৌরসভা নির্বাচন করেন শাহজাহান সরকার। সেই সময় বর্তমান মনোনয়ন পাওয়া খাজা মঈনুদ্দিন নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। খাজা মঈনুদ্দিন সেই নির্বাচনে মোবাইল মার্কা নিয়ে ২৯৯ ভোট পান। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্তুজা সরকার মানিক ছয় হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র পদে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী খাজা মঈনুদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলীয় প্রার্থী সাহাদত হোসেন শাহাজুল, বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতির ছোট ভাই সাবেক ছাত্র নেতা মাহামুদ আলম লিটন এবং বর্তমান মেয়র মুর্তুজা সরকার মানিক। তবে মেয়র মুর্তুজা নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩২ জন এবং নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৩১ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৫৫২ এবং মহিলা ১৪ হাজার ৩৭৯ জন। এবার ১০টি কেন্দ্রে ৯৪টি বুথে ভোট হবে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, এখানে কয়েকবার সভার পর একবার প্যানেল মেয়র মামুনুর রশিদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি রাজি ছিলেন। পরে অদৃশ্য কারণে আর দাঁড়ালেন না। আবার মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবিরকে দাঁড়াতে বললে তিনিও অদৃশ্য কারণে প্রার্থী হননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমপি থানা ওয়ার্কিং মিটিংয়ে নাম প্রস্তাব করার কোনো সুযোগ দেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত না নিয়েই গোপনে রেজল্যুশন করে খাজা মঈনুদ্দিনের নাম পাঠান তিনি। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এবং ওয়েবসাইট ও ই-মেইলে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান বাবুল বলেন, ‘খাজা মঈনুদ্দিন বিগত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটের মাঠে নীরব ছিলেন। তা নাহলে তাঁর ভোটসংখ্যা ২৯৯ হওয়ার কথা নয়।’ বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খাজা মুঈনুদ্দিনকে এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগে ফুলবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা