kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আগে লাভ পরে উধাও

জয়পুরহাটে সমবায় সমিতির তিন কোটি টাকার প্রতারণা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাত বছর ধরে সদস্যরা সঞ্চয় করেছেন। তাঁদের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে উধাও কর্মকর্তারা। এই ঘটনা জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে।

পাঁচবিবি উপজেলা সমবায় অফিস সূত্র ও সদস্যরা জানান, ‘গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি’ নাম দিয়ে ছয় সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে ২০১৩ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করেন সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রলাল রবিদাস। সমিতির সভাপতি চন্দ্রলালের স্ত্রীর বড় ভাই হরেন চন্দ্র। অন্য সদস্যও একে অন্যের আত্মীয়। এ জন্য তাঁরা উপজেলা সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধনও করেন। সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পাঁচবিবি পৌর সদরে একটি পাকা ভবনের দোতলায় অফিস নেওয়া হয়। উচ্চ সুদে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে আট শতাধিক সদস্যের প্রায় দুই কোটি টাকা সঞ্চয় করা হয়। একই সঙ্গে প্রতি মাসে লাখে দেড় হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে শতাধিক সদস্যের কাছ থেকে কোটি টাকার স্থায়ী আমানত সংগ্রহ করা হয়। মানুষের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জনে কয়েক বছর মুনাফার টাকা তারা সদস্যদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়। কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। মাঠকর্মীদের বেতনও বন্ধ হয়। এ অবস্থায় গত ১৫ নভেম্বর সমিতির অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান চন্দ্রলাল রবিদাস। এ পরিস্থিতিতে সমিতির সদস্যরা তাঁদের গচ্ছিত আমানত ও সঞ্চয়ের টাকা লোপাটের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন তাঁরা খোঁজ নিতে আসেন অফিসে।

সমিতির মাঠকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চন্দ্রলাল রবিদাসকে দুই লাখ টাকা জামানত দিয়ে সাত হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করি। সদস্যদের সঞ্চয় সংগ্রহ করে অফিসে জমা দিই। গত দুই মাস বেতন পাইনি।’

দানেজপুর গ্রামের নেপাল চন্দ্র বলেন, তাঁর স্ত্রী শেফালী রানীর নামে ছয় লাখ টাকা তিনি গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সমিতিতে জমা দেন। কাশপুর গ্রামের নাজিউল হক বলেন, বাবার পেনশনের ছয় লাখ এবং নিজের সঞ্চয়ের ৭৯ হাজার টাকা তিনি সমিতিতে জমা দেন। উত্তর দানেজপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসন্তী কেরকেটা বলেন, দুই শতক জমি বেচে তিনি চার লাখ টাকা আমানত রাখেন। লাভের টাকা না নিয়ে আলাদা চারটি সঞ্চয় হিসাব খোলেন। পশ্চিম বালিঘাটা গ্রামের রোজি আক্তার বলেন, তিন মাস আগে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তিনি জমা রেখে এক হাজার ৪০০ টাকা পেয়েছেন। পরে টাকা ফেরত নিতে গেলে চন্দ্রলাল তাঁকে যমুনা ব্যাংক পাঁচবিবি শাখার একটি চেক দেন, কিন্তু টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে চেক ফেরত দেয়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রলাল রবিদাসের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সভাপতি হরেন চন্দ্র বলেন, ‘আমাকে সভাপতির পদ দিয়ে রাখছে। আমি কিছুই জানি না।’

পাঁচবিবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লুতফুল কবীর সিদ্দিকী বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে সমিতির ধারদেনা ও গ্রাহকের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরমান হোসেন প্রতারিত সদস্যদের মামলা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য