kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অধিক মুনাফায় সর্বনাশ

রাঙ্গাবালীতে দপ্তরে ঝুলছে তালা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অধিক মুনাফায় সর্বনাশ

সঞ্চয় জমানোর মধ্য দিয়ে যাত্রা। কয়েক মাসে গ্রাহকদের বেশ টাকা জমে। দুর্গম জনপদের গ্রামীণ নারীদের সেই টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন কর্মকর্তারা। এই ঘটনা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট থেকে ৯ মাস আগে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজারে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ‘উন্নয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যালয় খোলা হয়। অধিক মুনাফা, অল্প সুদে ঋণ ও বিনা মূল্যের সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের আতাউল হাওলাদারের ছেলে এইচ এম রফিকুল ইসলামকে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বে মাঠকর্মীরা সদস্য সংগ্রহ করেন। প্রত্যেককে ১৫০ টাকা ভর্তি ফি দিয়ে সদস্য হতে হয়েছে। বর্তমানে ৬০০ জন গ্রাহক রয়েছে। এদিকে দুই মাস আগে হঠাৎ সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্টরা। সংস্থার সদস্যদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কষ্টে অর্জিত টাকা সঞ্চয় করেছেন তাঁরা। কিন্তু সেই টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে সংস্থাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্যালয়ের সাইনবোর্ড নেই। তালা ঝুলছে। এই কার্যালয়ের কার্যক্রম চলা ঘরের মালিক লিভা বেগম বলেন, ‘আমার চার মাসের ভাড়া না দিয়ে মালপত্র নিয়ে গেছে। আমিও সংস্থার সদস্য, দুই হাজার টাকা জমা আছে। এভাবে প্রত্যেক সদস্যের এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার করে টাকা জমা ছিল। আমাদের এই দুই ওয়ার্ডে প্রায় ১১৫ জন সদস্যের সঞ্চয় নিয়েছে।’

প্রতারিত সেলিনা, রসোনা, ফাহিমা ও সোনিয়া জানান, সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সংস্থার মাঠকর্মী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ৭০ জন সদস্য। অফিসের কার্যক্রম অনেক দিন বন্ধ। ভর্তি ফি ও সঞ্চয়ের ২৭ হাজার টাকা উঠিয়ে আমি সুপারভাইজার রফিকের কাছে দিছি।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংস্থার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সুপারভাইজার এইচ এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের টাকা-পয়সার হিসাব দেওয়া হইছে। টাকা-পয়সা তাদের কাছেই (মাঠকর্মী)। লাল মিয়া মেম্বর, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মুছা দফাদার, চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারবেন।’ প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘২৩ জনের মতো সদস্যকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া আছে। এ ছাড়া বাকি যারা সদস্য আছে, সব শেষ। এখন শুধু টাকাটা উঠানোর ব্যাপার। এ ছাড়া কোনো কার্যক্রম নেই। মূলত অফিস হলো রাঙ্গাবালী।’

শুধু চরমোন্তাজেই নয়—খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে এই সংস্থার কার্যক্রম চলছে। তবে চরমোন্তাজ ছাড়া বাকি ইউনিয়নগুলো নিয়ে এখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থার উপজেলা সমন্বয়ক লিংকন শিকদার (আসাদ) বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান অনুদানের ওপর চলে। করোনা সংকটে তা পেতে দেরি হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে অনুদান পাব। যার কারণে গ্রাহক ও কর্মীদের সঙ্গে একটু ঝামেলায় আছি। আশা করছি, টাকা এলে সব স্বাভাবিক হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, ‘খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য