kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজশাহী

সেই রেলকর্মীকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে সেই প্রতারক রেল কর্মচারীর  নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন বলে নির্যাতনের শিকার নারী আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। গতকাল রাজশাহীর কালের কণ্ঠ অফিসে এসে সুরাইয়া পারভীন নামের ওই নারী এ অভিযোগ করেন। তাঁর বাড়ি জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায়। আর প্রতারক রেল কর্মচারী রাশেল ইসলামের বাড়ি পুঠিয়ার দিঘলকান্দি গ্রামে। রাশেল রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের খালাসি পদে চাকরি করেন। তিনি বর্তমানে পাবনার ঈশ্বরদী স্টেশনে ফুয়েল সেকশনে কর্মরত। তাঁর চাকরির জন্য টাকাও দিয়েছিলেন তৃতীয় স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন। কিন্তু চাকরি পেয়ে পুনরায় যৌতুকের দাবিতে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন তাঁকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সেই একে একে তিনটি বিয়ে করেছেন পুঠিয়ার দিঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাশেল ইসলাম। প্রতিটি বউকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করেছেন। তাঁর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার পর তাঁকে তালাক দেন রাশেল। সর্বশেষ তৃতীয় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমনকি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরে সেই স্ত্রীকেও তালাক দিয়েছেন। তৃতীয় স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে গলা কেটে হত্যারও হুমকি দিয়েছেন। সেই রাশেলকেই বাঁচাতে পুলিশ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। এমনকি মামলাটিই সাজানো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। গত ১১ নভেম্বর ওই প্রতিবেদনটি দিয়েছেন পুঠিয়া থানার এসআই আব্দুল মজিদ।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর কালের কণ্ঠে নির্যাতিত ওই নারীকে নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর রেলওয়ে প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় হয়।

এদিকে পুঠিয়া থানায় করা মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সুরাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় পুঠিয়ার দিঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাশেল ইসলামের। বিয়ের সময় রাশেল ইসলামকে ছয় লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিল সুরাইয়ার পরিবার। সেই টাকা দিয়ে রাশেল রেলওয়েতে চাকরি নেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর বদলে যান রাশেল। এরপর আবারও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকেন সুরাইয়াকে। কিন্তু পুনরায় যৌতুক না দেওয়ায় রাশেল গত ১৫ জুন স্ত্রী সুরাইয়াকে নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সুরাইয়া গত ২৯ জুন পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার বাদী সুরাইয়া পারভীন অভিযোগ করে বলেন, ‘এসআই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিকে বাঁচাতে মামলাটি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এ কারণে এসআই মামলা থেকে আসামির নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

পুঠিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মজিদ বলেন, ‘তদন্তে যা উঠে এসেছে আমি সেটিই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।’

মন্তব্য