kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আলো থেকে আঁধারে শিশুসন্তান

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আলো থেকে আঁধারে শিশুসন্তান

নিহত শিশু সোহান

প্রতিবন্ধী সন্তানের ভোগান্তি এড়াতে হত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সোহাগ-ফাতেমা দম্পতির ঘর আলো করে এসেছিল ছেলেশিশুটি। ঘটা করে নাম রাখা হয় সোহান হোসেন। সেটি গত ১১ নভেম্বরের কথা। সেই আদরের সন্তান নিউমোনিয়ায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে ১৫ দিনের মাথায় মা-বাবাই তাকে বোঝা মনে করতে থাকেন। একপর্যায়ে হত্যাও করেন নির্মম মা-বাবা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালী গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। সোহান ওই গ্রামের ফাতেমা বেগম-সোহাগ হোসেন দম্পতির ছেলে। প্রতিবন্ধী সন্তানের ভোগান্তি এড়াতে মা-বাবাই পরিকল্পনা করে নবজাতককে হত্যা করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার ভোরে হাওয়ালখালী গ্রামে ফাতেমার বাবা নূর ইসলামের বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে শিশু সোহানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নবজাতক হত্যার অভিযোগে শিশুর বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বছরদুয়েক আগে হাওয়ালখালী গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে কলারোয়া উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সোহাগ হোসেনের বিয়ে হয়। ফাতেমার শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন থাকার পর পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানেই স্বামীকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। বাবার বাড়িতেই ফাতেমা সন্তানসম্ভাবনা হয়ে পড়েন।

গত ১১ নভেম্বর শহরের আনোয়ারা ক্লিনিকে জন্ম নেয় তাঁদের ছেলেসন্তানটি। এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৫ নভেম্বর তাঁরা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির বারান্দায় ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে শিশুটি চুরি হয়ে যায় বলে তাঁরা প্রচার করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সোহাগ হোসেন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, সোহাগ ও ফাতেমা রাস্তার ধারের একটি ঘরে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে শিশুটিকে নিয়ে মা-বাবা ঘুমিয়ে থাকাকালে কে বা কারা তাকে চুরি করে নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে গত শুক্রবার রাতে শিশুর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জানান, শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছিল। এমনকি শিশুটি প্রতিবন্ধী ছিল। প্রতিবন্ধী শিশুর ভোগান্তি এড়াতেই স্ত্রী ফাতেমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে শিশুটিকে মেরে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেন বাবা। পরে চুরি হওয়ার কথা প্রচার চালানো হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে, শনিবার ভোরে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

 

হত্যার স্বীকারোক্তি মায়ের

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৭ দিনের শিশু সোহানাকে তার মা শান্তা বেগমই হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বাগেরহাট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।

গত শুক্রবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় গতকাল শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোহানা হত্যা মামলায় তাঁর মা শান্তা বেগম ও বাবা সুজন খান জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাবতলা গ্রামের সুজন খানকে ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে শান্তা তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা। শান্তার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, শান্তা বেগম তাঁর মেয়েকে রাতে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। এই ঘটনার নানা বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।

গত ১৫ নভেম্বর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা থেকে মেয়ে চুরি হয়েছে বলে প্রচার করেন শান্তা-সুজন দম্পতি। দুই দিন পর বাড়ির পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা মো. আলী হোসেন খান বাদী হয়ে অজানা ব্যক্তিদের আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য