kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চেয়ারম্যান সিদ্দিকুরের আ. লীগে ডিগবাজি

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চেয়ারম্যান সিদ্দিকুরের আ. লীগে ডিগবাজি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সিদ্দিকুরকে ফুলের মালা দিয়ে আওয়ামী লীগে বরণ করে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক। ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি এবং নৌকা প্রতীক ভাঙচুর ও পোড়ানো মামলার প্রধান আসামিও।

গত বুধবার সন্ধ্যায় খটশিংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক বিশেষ কর্মিসভায় তাঁকে আওয়ামী লীগে বরণ করা হয়। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক তাঁর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন।

ওই বিশেষ কর্মিসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লবসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়নাল আবেদিনকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান। ২৬ এপ্রিল এলাকায় ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সামনে থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান। মিছিল চলাকালে সিংগারোল-দহগাহ এলাকায় পাকা সড়কে নির্মাণ করা নৌকা প্রতীকসংবলিত তোরণ (গেট) ভাঙচুর করেন। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ ভাঙা গেটে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পর দিন সিদ্দিকুর রহমানসহ ১০৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই জালাল উদ্দীন। মামলাটি তদন্ত করে সিদ্দিকুরসহ ১১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক সোহেল রানা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকতারুল ইসলাম জানান, সিদ্দিকুর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেখানে স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এখন মামলা থেকে বাঁচতে আওয়ামী লীগে এসেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মামলা থেকে বাঁচতে না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছি।’ বঙ্গবন্ধু বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর বা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক বলেন, ‘কোনো বিশেষ সুবিধা না, কেউ আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে যোগদান করতেই পারে। এতে দোষের কিছু নেই।’

মন্তব্য