kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ট্রাকের চাকা ঘুরলেই চাঁদা

নেত্রকোনা ও পূর্বধলা প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাকের চাকা ঘুরলেই চাঁদা

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে দুর্গাপুর উপজেলার কৃষ্ণেরচরে ট্রাক চালকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পাঁচটি স্থানে পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজি হয়। যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নেত্রকোনায় জেলা মোটরযান (বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস) শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নামে দুটি সংগঠন রয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর বালু পরিবহনে প্রতিদিন শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে প্রায় এক হাজার ট্রাক চলাচল করে। এসব ট্রাক ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু সরবরাহ করে। তাদের কাছ থেকে বাসচালকদের সংগঠন দুর্গাপুর, বিরিশিরি, কৃষ্ণের চর, জাঞ্জাইল ও শিমুলতলীতে চাঁদা আদায় করে। ধরন অনুযায়ী প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়।

অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাক শ্রমিকরা গত ৪ আগস্ট ঢাকা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। গত ১৩ আগস্ট চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে পত্র জারি করে বিভাগীয় শ্রমদপ্তর। এরপরও চাঁদা আদায় বন্ধ না হওয়ায় তাঁরা ১ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবার আবেদন করেন। তাঁদের অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে এখনো চাঁদা আদায় বন্ধ করা হয়নি।

নেত্রকোনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বাসচালকদের সংগঠন কোনো ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান থেকে কোনো প্রকার চাঁদা আদায় করতে পারবে না। কিন্তু তারপরও চাঁদা আদায় চলছে। এর প্রতিবাদে গত রবিবার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলা উপজেলার লালমিয়ার বাজার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন ট্রাক, ট্রাক্টর ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। পরে দুর্গাপুর ও পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় ময়মনসিংহ মালিক ও শ্রমিক সমিতি সমঝোতার জন্য বৈঠকে বসে। আলোচনার পরও বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী মঙ্গলবার পুনরায় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা মোটরযান (বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস) কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জেলার কোথাও আমার সংগঠনের কোনো সদস্য চাঁদা তোলে না। তবে পূর্বধলায় একটি ভুয়া সংগঠন আছে, তারা দুর্গাপুর সড়কে চাঁদাবাজি করে।’

পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন, ‘পূর্বধলা উপজেলার কোনো এলাকায় চালক-শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা আদায় করা হয় না।

দুর্গাপুর থানার ওসি শাহনুর আলম বলেন, ‘দুর্গাপুরে যানবাহনে চাঁদাবাজি হয় না। চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা কঠোর রয়েছি।’

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম বলেন, ‘পরিবহনে চাঁদাবাজি পুলিশ দেখছে। পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। প্রশাসনের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে।’

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘কোনো সংগঠন যদি পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।’

মন্তব্য