kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সার্ভেয়ারের দেখা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সার্ভেয়ারের দেখা নেই

সেলিম হাসান। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার। তাঁর কক্ষের সামনে রঙিন বোর্ডে লেখা রয়েছে তাঁর দায়িত্ব। লেখা আছে মোবাইল নম্বর। দেখে মনে হবে সেবা দিতে যেন তিনি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নাগরিকদের অপেক্ষায় থাকেন।

বাস্তবতা হলো, তাঁকে অফিসেই দেখা যায় না। ফোনে পাওয়া যায় না। দিনের পর দিন ঘুরেও এ কর্মকর্তার দেখা মেলে না। এমনকি এ প্রতিবেদক তাঁর সম্পর্কে অভিযোগের বক্তব্য নেওয়ার জন্যও গত দুই সপ্তাহ ঘুরে দেখা পাননি। আর তিনি ফোন তো ধরেনই না। ময়মনসিংহ জেলা সদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে কিভাবে এমন একজন সার্ভেয়ার কাজ করে যাচ্ছেন, এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকার-প্রশাসনের নানা স্তরে সুশাসনের ছোঁয়া লাগলেও এর প্রভাব পড়েনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে। মাস যায়, বছর যায়। কর্মকর্তা আসে, কর্মকর্তা যায়। কিন্তু এ অফিসের ভোগান্তির চিত্রের পরিবর্তন হয় না।

জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওঠানো, সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন, কাগজপত্র সংশোধন ইত্যাদি বিষয়ে হয়রানি চলে নিয়মিত। এর বাইরে কর্মকর্তাদের অফিসে না পাওয়া, কর্মকর্তাদের ফোন না ধরার কারণেও নাগরিকরা ভোগান্তিতে পড়েন। হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে মুখ না খোলার সুযোগে ভূমি অফিসে হয়রানি চলে বেপরোয়াভাবে।

একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, যাঁরাই এখানে সোজা পথে এবং নিয়ম মেনে সরাসরি কাজ করতে আসেন, তাঁদেরই ভোগান্তির সীমা থাকে না। আর চিহ্নিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড়ালে-আবডালে যোগাযোগ করে কাজ করতে চাইলে সহজে তা শেষ হয়ে যায়। ময়মনসিংহের জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন ভূমি অফিসের হয়রানি রোধে নানাবিধ দিকনির্দেশনা দিলেও মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তারা তাতে কান দিচ্ছেন না।

যে কয়জন কর্মকর্তার কারণে এ অফিসে নাগরিকদের ভোগান্তি তাঁদের অন্যতম সার্ভেয়ার সেলিম হাসান। একজন ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর কেনা জমির বিষয়ে সার্ভেয়ার সেলিম হাসান বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও তিনি সেলিম হাসানের দেখা পাননি। এমনকি তাঁর ফোনও ধরেননি সেলিম। আরেকজন আইনজীবী বলেন, তিনি সকালে একাধিক দিন এ অফিসে গিয়েছেন সেলিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য। অথচ তাঁকে পাওয়া যায়নি। যদিও সকালে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অফিসে থাকার নির্দেশনা আছে।

এদিকে সেলিম হাসানের অভিযোগ সম্পর্কে এ প্রতিবেদক খবর নিয়েও অভিযোগের সত্যতা পান। এ প্রতিবেদক সম্প্র্রতি একাধিক দিন সদর ভূমি অফিসে গিয়ে তাঁর দেখা পাননি। তাঁকে ফোন দিলেও সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কান্তি বসাক বলেন, তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

 

মন্তব্য