kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লামা বন বিভাগের নিলাম

চার কোটি টাকার কাঠ ৬২ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বান্দরবানের লামা বন বিভাগ এক প্রকাশ্য নিলামে ৬২ লাখ টাকায় বনজ সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ওই বনজ সম্পদের দাম অন্তত চার কোটি টাকা। লামা বন বিভাগের অধীন আলীকদম উপজেলার তৈন রেঞ্জে গত মঙ্গলবার এই নিলাম ডাকা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিলাম ডাকার আড়ালে পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পদ ভাগাভাগি করে দেওয়ার কাজে তৎপর রয়েছে বন বিভাগের একটি চক্র। তারা আঁতাত করে নামমাত্র মূল্যে সরকারি সম্পদ গোষ্ঠী বিশেষের হাতে তুলে দিচ্ছে।

বন বিভাগীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, কুতুব উদ্দিন সওদাগর এবং লামার মো. সেলিমসহ আরো কয়েকজন এই নিলামে অংশ নেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ন্যায্য দামে কাঠ কেনার জন্য চক্রের বাইরে অরো কয়েকজন আগ্রহী ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নিতে উপস্থিত হন। বন বিভাগের প্রশ্রয়ে প্রভাবশালীর চোখ রাঙানিতে তাঁরা নিলাম ডাকা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন।

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ২২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে নিলাম ডাকা থেকে বিরত থাকেন। ফলে খুব সহজে চার কোটি টাকার সম্পদ ৬২ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ ডাক তোলে প্রভাবশালী গাছ ব্যবসায়ীচক্র।

বিভিন্ন রেঞ্জ, স্টেশন এবং বিটে জব্দ হওয়া বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ, ঝড়ে ভাঙা ও ক্ষতিগ্রস্ত গাছপালা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে আহরিত কাঠ ছাড়াও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সৃজিত ব্লকউড বাগানের মার্কিং করা গাছ এই নিলামে অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুনে পত্রিকায় এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পাঁচ মাস পর নিলাম ডাকা হয়।

নিলামগ্রহীতা মো. সেলিম জানান, কোনো ধরনের আঁতাত করে না, প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে তাঁরা কয়েকজন মিলে ৬২ লাখ টাকায় সব কাঠ কিনে নিয়েছেন।

তবে লামার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম কায়সার বলেন, ‘বেশ কয়েকটি গ্রুপ মিলে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই মোট কত টাকায় কী পরিমাণ কাঠ বিক্রি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।’

তৈন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ মিনার চৌধুরী তাঁর দপ্তরে নিলাম হওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা ও কাঠের হিসাব দিতে পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা