kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হাসপাতালেই বিধি নেই

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাসপাতালেই বিধি নেই

সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ বন্ধ আছে উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টার। সম্প্রতি সরকারের দেওয়া ৯টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এখানকার কোথাও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। বরং সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না এখানকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার আইসোলেশন সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। করোনা আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহের জন্য আলাদা কোনো বুথ নেই। কখনো বারান্দায় আবার কখনো হাসপাতালের সাধারণ কক্ষে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘এখন রোগী না থাকায় আইসোলেশন ইউনিটটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। রোগী এলে ফের চালু করা হবে।’ তবে নমুনা সংগ্রহের জন্য আলাদা কোনো বুথ করা হয়নি—এ কথা স্বীকার করে হাসপাতালের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আলাদা বুথ না থাকায় এখানে সতর্কতার সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।’

জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় কভিড-১৯-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ রোধে সরকারের নেওয়া ৩০ নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য ৯টি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ ও অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস নিশ্চিত করা, ফ্লু কর্নার, ট্রায়াজ সিস্টেম ও আইসোলেশন সেন্টার সচল রাখা ইত্যাদি। এগুলো বাস্তবায়ন করার কথা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের। অবশ্য মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন গত ১ নভেম্বর জরুরি সভা আহ্বান করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অথচ হাসপাতাল-ক্লিনিকসংক্রান্ত এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে অনেকটাই অনুপস্থিত। বরং নিদের্শনার এক মাস পার হয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে এসব বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়নি এখনো।

এদিকে মিরসরাই উপজেলার বারইয়াহাট পৌরসভা, মিরসরাই পৌরসভা ও মিঠাছরা বাজার এলাকার ৯টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক বাণিজ্যিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরসরাই সদর এলাকার মাতৃকা হাসপাতাল, সেবা আধুনিক হাসপাতাল, হোপ মা ও শিশু হাসপাতাল, সুফিয়া রোড এলাকার ভিডিসি মা ও শিশু হাসপাতাল, মিঠাছরা বাজার এলাকার মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতাল, বারইয়াহাট পৌরবাজার এলাকার বারইয়াহাট জেনারেল হাসপাতাল, কমফোর্ট হাসপাতাল, শেফা ইনসান হাসপাতাল ও বারইয়াহাট মেডিক্যাল সেন্টার। এগুলোর কোনোটিতে করোনা রোগীর জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

উপজেলার সুফিয়া রোড এলাকার ভিডিসি মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এখানকার রোগী কিংবা রোগীর স্বজনদের কারো মুখে মাস্ক নেই। বারইয়াহাট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এ ধরনের কোনো প্রস্তুতিই নেই। নেই ফ্লু কর্নার ও ট্রায়াজ সিস্টেম। এ বিষয়ে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আলাদা ফ্লু কর্নার বা ট্রায়াজ সিস্টেম করার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ অথবা উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবুও আমরা সাধারণ হাঁচি-কাশির রোগী দেখছি।’

মৌখিক বা লিখিত কোনো রকম নির্দেশনা পাননি দাবি করে মিরসরাই বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে এখানকার হাসপাতালগুলো সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়াও জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।’

স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ফ্লু কর্নার, ট্রায়াজ সিস্টেম বা করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার মতো সরকারি নির্দেশনা না দেওয়ার বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো চিঠি দিয়ে তাদের জানাইনি। তবে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছি। শিগগিরই তা বাস্তবায়নে আমরা তদারকি শুরু করব।’ এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা