kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রার্থিতার ভোট নিয়েও সন্দেহ

শেরপুর প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রার্থিতার ভোট নিয়েও সন্দেহ

শেরপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ দমাতে যেসব কৌশল নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে, তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা। তবে তৃণমূলের ভোটের নামে ‘ভোট বাণিজ্য’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত না হলেও আগামী বছরের প্রথমদিকে শেরপুর পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। এ জন্য এক মাস আগে থেকে নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আগ্রাসী প্রচারণায়। বর্তমান মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনসহ পাঁচ নেতা নেমেছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নবারুণ শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান উৎপল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জেলা আইনজীবী সমিতি ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক শিল্প উদ্যোক্তা আনিসুর রহমান এবং শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পরিবহন শ্রমিক নেতা আরিফ রেজা।

‘নৌকা প্রতীক পেলে বিজয় সুনিশ্চিত’ এমন আশায় দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতাই কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। কোনো কোনো প্রার্থী শহরের বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ, বাহারি রঙিন পোস্টার সাঁটানো, ফেসবুকে প্রচারণার পাশাপাশি মোটরসাইকেল শোডাউন, গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ এমনকি পিকআপ ভ্যানে গানে গানে প্রচারণায় সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। এমন অবস্থায় শেরপুর পৌরসভায় দলীয় একক প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে টানাপড়েন দেখা দেয়। এ কারণে জটিলতা নিরসনে রবিবার রাতে শহরের চকবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে শহরের বসবাসকারী নেতাদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক বিশেষ সভা করা হয়।

সভায় শেরপুর পৌরসভার মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচজনকে নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন তিনজন সহসভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলাম, ফখরুল মজিদ খোকন, মিনহাজ উদ্দিন মিনাল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দে ভানু, সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, জাতীয় পরিষদ সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোরশেদুজ্জামান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি প্রকাশ দত্ত। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের শহরে বসবাসকারী ৪৪ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন সভায় বক্তব্য  দেন।

এই সভায় একই সঙ্গে সমঝোতা না হলে তৃণমূলের ভোটার কারা হবেন, সেই বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শেরপুর পৌরসভার দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য শহর আওয়ামী লীগের কমিটির সব সদস্য, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির শহরে বসবাসকারী সব নেতা তৃণমূলের ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন। এদিকে, তৃণমূলের ভোটের নামে ‘ভোট বাণিজ্য’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ মনে হলেও মাঠের বাস্তব অবস্থা সুখকর নয়। এর আগে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোয়নে তৃণমূলের ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় প্রার্থীও পিছিয়ে পড়তে পারেন।’

সভায় উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফখরুল মজিদ খোকন ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করছেন। তিনি জানান, ওই কমিটি আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সমঝোতা করতে চেষ্টা করবে। যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল হক নাজিম বলেন, ‘যদি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তৃণমূলের ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল কেন্দ্রে পাঠিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা