kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাশিদুল এখন জেলে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিদুল এখন জেলে

রাজশাহীর দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরে অন্যদের সঙ্গে মাছ ধরছেন রাশিদুল হক রাশেল (ডানে)। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরে সাতসকালে কয়েকজন জেলে মাছ শিকার করছিলেন। আর মাছ শিকারের বিনিময়ে ওই জেলেরা সামান্য কিছু টাকা পাবেন। সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেবেন। জেলেদের মধ্যে পাঁচজন যুবক, তিনজন মধ্যবয়স্ক। এই যুবকদের মধ্যে একজন নম্রভদ্র স্বভাবের। তাঁর আচার-আচরণও মার্জিত। যে কেউ একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে ছেলেটি শিক্ষিত। হ্যাঁ, শিক্ষিতই বটে। কিন্তু কাজ করে যাচ্ছিলেন সমানে। তাঁর নাম রাশিদুল হক রাশেল (২৭)।

রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর (এমএ) পাস করেছেন রাশেল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চাকরি জোটেনি কপালে। তাই বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছেন জেলে পেশা। কাকডাকা ভোরে আড়মোড়া দিয়ে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরে।

এমএ পাস করার পরই সংসার চালাতে জেলে পেশায় যোগ দেন রাশেল। ছাত্রজীবনেও কখনো কখনো মানুষের জমিতে কাজ করে পড়াশোনার খরচ জুটিয়েছেন। এখনো জাল কাঁধে নিয়ে অন্যের পুকুরে মাছ শিকার করতে ছুটে চলছেন তিনি।

জানা গেছে, পুকুরের আকার অনুযায়ী, এক থেকে চার হাজার টাকা পান তাঁরা। সেই টাকা সংখ্যানুপাতিক হারে ভাগ করে নেন। এভাবেই দুই বছর ধরে জেলে পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবন-জীবিকার যুদ্ধে নেমেছেন শিক্ষিত এই বেকার যুবক।

রাশিদুল হক রাশেল জানান, তাঁর বাড়ি দুর্গাপুরের জয়কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের দিনমজুর আবুল কালামের ছেলে। সংসারে রাশেলের স্ত্রীসহ এক বোন ও মা-বাবা রয়েছেন। ছোট বোন রোকেয়া খাতুন বানেশ্বর কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। রাশেল ২০১৮ সালে ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেই বিয়ে করেন। কিন্তু চাকরির আশায় বসে না থেকে সংসারের ঘানি টানতে নেমে পড়েছেন জেলেদের সঙ্গে মাছ শিকারে।

জেলেদের সর্দার শাহজাহান আলী বলেন, ‘রাশেল খুবই পরিশ্রমী। কাজের কৌশলও ভালো বোঝে। কিন্তু চাকরির অভাবে এখন সে আমাদের সঙ্গে জেলে হিসেবে কাজ করছে। এখন কেউ যদি তাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে তাকে আর এত কষ্ট করতে হবে না।’

হতাশাজনিত কণ্ঠে রাশেল বলেন, ‘দিনে মাছ ধরলেও একটি চাকরির আশায় এখনো রাত জেগে পড়াশোনা করি। কিন্তু কে দেবে আমাকে চাকরি? আবার সংসার চালানোর জন্য বসে থাকাও যায় না। তাই চাকরির আশায় বসে না থেকে নেমে পড়েছি মাছ শিকারে। এখন জেলে হিসেবেই আমাকে সবাই চেনে। কিন্তু এত পড়াশোনা করে কী লাভ হলো আমার?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা