kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

বালুতে সখ্য আ. লীগ-বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বালুতে সখ্য আ. লীগ-বিএনপির

রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য একটি বালুমহাল লিজ নিয়েছেন বকুল হোসেন নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। কিন্তু সেখানে বালু উত্তোলন না করে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এসে দুটি বালুমহাল দখল করে বালু তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর এই অপকর্মে তাঁকে সহায়তা করছেন স্থানীয় পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম।

পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে জোর করে বালুর ট্রাকপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে টোল আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গোদাগাড়ীর দুটি বালুমহালের দুই ইজারাদার পবার হরিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও হড়গ্রাম এলাকার মনোয়ারুল হোসেন। প্রায় সোয়া চার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দপ্তরের মাধ্যমে বালুমহাল দুটি ইজারা নিয়েছেন তাঁরা।

এ নিয়ে দুই ইজারাদার রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছেন। এমনকি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেনও তাঁরা। আদালত থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের দাপটের কারণে স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে বিএনপি নেতা বকুল হোসেন একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে।

অভিযোগ মতে, গত ৩ জুন ওই বালুমহাল দুটি লিজ নেন জাহাঙ্গীর আলম ও মনোয়ারুল হোসেন। লিজ গ্রহণের শর্তানুযায়ী গত পহেলা বৈশাখ থেকে বালুমহাল দুটি থেকে বালু উত্তোলন করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু করোনার সুযোগ নিয়ে প্রায় দুই মাস বালুমহাল দুটি দখল করে রাখেন বকুল হোসেন। ফলে পহেলা বৈশাখ থেকে বালু উত্তোলন করতে পারেননি ইজারাদাররা। পরে বালু উত্তোলন করতে গেলে বাধা দেয় বকুলের লোকজন।

বিএনপি নেতা বকুল মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বালুমহাল লিজ নিয়ে গোদাগাড়ীর বালুমহাল দুটি দখল করেছেন। ফলে প্রকৃত লিজগ্রহীতা দুই ইজারাদার এখন পর্যন্ত দুটি বালুমহালের পুরোপুরি দখল বুঝে পাননি।

ক্ষমতাবলে বালুমহালের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে রেখেছেন বকুল। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন গোদাগাড়ী পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী আনারুল বিশ্বাস।

বিষয়টি সুরাহার জন্য উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম ও মনোয়ারুল হোসেন। গত ৯ নভেম্বর বিষয়টিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন ওই দুই ইজারাদার। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা কালের কণ্ঠ’র রাজশাহী অফিসে এসে এই অভিযোগ করেন।

লিজগ্রহীতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের ট্রাক থেকেও এক প্রকার জোর করে পৌরসভার নামে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আবার পৌর মেয়রের প্রশ্রয়ে বকুল হোসেন জোরপূর্বক ঘাট দখল করে বালু উত্তোলন করছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা। এভাবে চলতে থাকলে মেয়াদ শেষে আমাদের অন্তত দুই কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। আমরা এর একটি সুরাহা চাই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বকুল হোসেন বলেন, ‘আমি আমার লিজ নেওয়া জায়গা থেকেই বালু উত্তোলন করছি। অন্য কারো জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছি না।’ পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যত দূর জানি, বকুল তার লিজ নেওয়া জায়গা থেকেই বালু তুলছে। তবে গোদাগাড়ীর বালুমহাল থেকে বালু তুলছে কি না, সে ব্যাপারে আমার জানা নেই।’

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘লিজ নেওয়া জায়গা বুঝে দেওয়ার কথা ছিল সার্ভেয়ারদের। সেটি পরবর্তীতে কী অবস্থায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশের কোনো কপি আমি এখনো হাতে পাইনি। কপি পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা