kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

মামলাজটে ভুগছে বিচারপ্রার্থী

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামলাজটে ভুগছে বিচারপ্রার্থী

সাতক্ষীরা আদালতে বিচারক ও কর্মচারী সংকটে বাড়ছে মামলার জট। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সাত মাস আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাতক্ষীরা জজ আদালত ও বিচারিক আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়েই চলছে। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা।

শ্যামনগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এক নারী বলেন, ২০১৮ সালে তিনি সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আদালত গত ১০ মাস না বসায় রায় পাননি তিনি। এমনকি রায় দেরিতে হওয়ার কারণে আসামিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।

শহরের রসুলপুর মেহেদীবাগের রিপা বেগম বলেন, স্বামী নূর ইসলাম যৌতুকের দাবিতে তাঁকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তালাক দিলে সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। গত ১০ মাস আদালত না বসায় বিচার পাচ্ছেন না তিনি। তবে নিয়মিত আদালতে এসে আইনজীবী ও তাঁর সহকারীকে টাকা দিতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার গাংনিয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর স্ত্রী রিজিয়া খাতুন বলেন, ছেলের শ্বশুর তাঁদের পরিবারের চার সদস্যের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। ওই আদালতের বিচারক সচিবালয়ে বদলি হয়ে গেছেন। ফলে নতুন বিচারক যোগদানের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম না চললেও তাঁদের আদালতে এসে উকিল-মুহুরিকে নিয়মিত ফি দিতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রার্থী কালীগঞ্জের জয়পত্রকাটি গ্রামের নুরুল হক জানান, গত ২১ মার্চ বিচারক তপন রায় পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে যাওয়ার পর নতুন বিচারক যোগদান করেননি।

সাতক্ষীরা জজকোর্ট ও জুডিশিয়াল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত, যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত, যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সদর সহকারী জজ, সহকারী অতিরিক্ত জজ, তালা সহকারী জজ, কলারোয়া সহকারী জজ, দেবহাটা সহকারী জজ, কালীগঞ্জ সহকারী জজ, শ্যামনগর সহকারী জজ ও আশাশুনি সহকারী জজ আদালতে ৩১ হাজার ৮৬০টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম ও দ্বিতীয় আদালত, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম ও দ্বিতীয় আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিশেষ মামলা, ফৌজদারি আপিল, ফৌজদারি রিভিশন, ফৌজদারি মিস, এসিড অপরাধ,

জননিরাপত্তা, সন্ত্রাসসহ বিচারাধীন ১২ হাজার ১৭০টি মামলা

রয়েছে। এ নিয়ে জজ আদালতে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৩০টি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনুছ আলী জানান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনেক পদ শূন্য রয়েছে। তবে তিনি সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি।

এদিকে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আদালত ছাড়াও প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ আমলি আদালতে বিচারাধীন ১৩ হাজার ৫৯১টি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ সাতক্ষীরা আদালতে বিচারাধীন মোট মামলার সংখ্যা ৫৭ হাজার ৬২১টি।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, বর্তমানে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ও জ্যেষ্ঠ বিচারিক হকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক পদগুলো শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই সব পদে বিচারক না থাকায় ও সাত মাস ধরে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিচার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় প্রতিটি আদালতে মামলার জট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে কর্মচারী ও কর্মকর্তা সংকট। সব মিলিয়ে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি হতে হচ্ছে। অনতিবিলম্বে বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ না দেওয়া হলে শীতের মৌসুমে করোনা পরিস্থিতির কারণে মামলার জট আরো বাড়বে। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা